নয়াদিল্লি, ৬ জুলাই ২০২৬: ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভারতের কারিগরি শিক্ষা ক্ষেত্রে এক বড়সড় সংকটের চিত্র সামনে এসেছে। সারা দেশজুড়ে মোট ৫৮টি ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনিক্যাল কলেজ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই বন্ধ হয়ে যাওয়া কলেজগুলোর তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্র। ভারতের কারিগরি শিক্ষার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকনিক্যাল এডুকেশন’ (AICTE) বা এআইসিটিই এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সংস্থার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সংবাদসংস্থা পিটিআই (PTI)-কে জানিয়েছেন যে, এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘প্রোগ্রেসিভ ক্লোজার’ (Progressive Closure) বা পর্যায়ক্রমিক বন্ধের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর অর্থ হলো, এই কলেজগুলো চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম বর্ষে আর কোনো নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না। তবে, বর্তমানে যেসব শিক্ষার্থী ওই কলেজগুলোতে ইতিমধ্যে পড়াশোনা করছেন, তাঁদের পড়ালেখায় কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না এবং তাঁরা স্বাভাবিক নিয়মেই তাঁদের ডিগ্রি বা কোর্স সম্পন্ন করতে পারবেন।
এআইসিটিই-র নিয়ম অনুযায়ী, ‘কমপ্লিট ক্লোজার’ বা সম্পূর্ণ বন্ধের ক্ষেত্রে কোর্সগুলো পুরোপুরি বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের অন্য কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন যাতে ব্যাহত না হয়, সে কথা মাথায় রেখেই এই ৫৮টি কলেজের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমিক বন্ধের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
এআইসিটিই-র তথ্য অনুযায়ী, বন্ধ হতে যাওয়া ৫৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উত্তরপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি ১২টি করে কলেজ রয়েছে। রাজ্যভিত্তিক তালিকাটি নিচে দেওয়া হলো:
- উত্তরপ্রদেশ: ১২
- মহারাষ্ট্র: ১২
- মধ্যপ্রদেশ: ৮
- তেলেঙ্গানা: ৪
- পাঞ্জাব: ৪
- অন্ধ্রপ্রদেশ: ৩
- রাজস্থান: ৩
- গুজরাট: ২
- কর্ণাটক: ২
- তামিলনাড়ু: ২
- হরিয়ানা: ১
- ওড়িশা: ১
- উত্তরাখণ্ড: ১
- পশ্চিমবঙ্গ: ১
উল্লেখ্য, এই ৫৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ৩টি ছিল সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত (Government-aided), এবং বাকি ৫৫টি কলেজই ছিল সম্পূর্ণ বেসরকারি অর্থায়নে পরিচালিত। কলেজগুলো বন্ধের পাশাপাশি দেশজুড়ে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলমান প্রায় ৯৫০টিরও বেশি কোর্স বা বিভাগও একই মেয়াদের মধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এআইসিটিই-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হঠাৎ করে নয় বরং বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়মের গাফিলতির কারণেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১. শিক্ষার্থী ভর্তির ক্রমাগত হ্রাস (Low Enrollment): গত কয়েক বছর ধরে এই কলেজগুলোতে আসন সংখ্যার তুলনায় অত্যন্ত কম শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছিল।
২. যোগ্য শিক্ষকের অভাব (Faculty Shortage): নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক বা যোগ্য শিক্ষক ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।
৩. পরিকাঠামোগত ত্রুটি (Non-compliance of Norms): ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি এবং এআইসিটিই নির্ধারিত পরিকাঠামো ও অন্যান্য নিয়মাবলী যথাযথভাবে মেনে না চলা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইআইটি (IIT) বা এনআইটি (NIT)-র মতো শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে যত্রতত্র গড়ে ওঠা বেসরকারি কলেজগুলোর গুণগত মান ও পরিকাঠামোর অভাব যে ভারতের কারিগরি শিক্ষাকে এক ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে, এই পরিসংখ্যান তারই প্রমাণ।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
