মুঘল ইতিহাস মোছার আগে দুপুরের খাবার ছাড়ুন, খাদ্য অভিযানের কটাক্ষে টুইঙ্কল

মুঘল ইতিহাস মোছার আগে দুপুরের খাবার ছাড়ুন, খাদ্য অভিযানের কটাক্ষে টুইঙ্কল

মুম্বই, ২ সেপ্টেম্বর:

মহারাষ্ট্রে খাদ্য সুরক্ষায় কড়া পদক্ষেপ ও রেস্তোরাঁয় লাগাতার অভিযানের আবহে নিজের চেনা তির্যক ভঙ্গিতে সরব হলেন প্রাক্তন অভিনেত্রী তথা লেখিকা টুইঙ্কল খন্না। মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কমিশনার তুকারাম মুণ্ডের সাম্প্রতিক অভিযান এবং পাঠ্যবই থেকে মুঘল ইতিহাস বাদ দেওয়া নিয়ে চলা বিতর্ককে এক সুতোয় বেঁধে কটাক্ষ করেছেন তিনি। নিজের জনপ্রিয় মিসেস ফানিবোনস কলামের অংশ সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়ে রসিকতার ছলে ইতিহাসের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন তিনি।

মহারাষ্ট্রের এফডিএ কমিশনার তুকারাম মুণ্ডের নেতৃত্বে চলা সাম্প্রতিক খাদ্য সুরক্ষা তল্লাশিকে কেন্দ্র করে রেস্তোরাঁ মহলে যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, তাকেই ব্যঙ্গ করেছেন টুইঙ্কল। তিনি রসিকতা করে জানান, মুণ্ডের পদক্ষেপে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি নিজের রান্নাঘরেই তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিলেন। আর সেই তল্লাশিতে এমন এক প্যাকেট শাহী মশলা উদ্ধার হয়, যার মেয়াদ নাকি শেষ হয়ে গিয়েছিল মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের সময়েই।

এই শাহী মশলার প্রসঙ্গ টেনেই তিনি পাঠ্যবই থেকে মুঘল ইতিহাস মুছে ফেলার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। টুইঙ্কলের স্পষ্ট বক্তব্য, যাঁরা পাঠ্যবই থেকে মুঘলদের নাম পুরোপুরি মুছে ফেলতে চান, তাঁদের এই বর্জনের প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত নিজেদের দুপুরের খাবারের থালা থেকেই। ভারতীয় রসনা থেকে কোফতা, কোর্মা, কাবাবের মতো মোগলাই পদ ত্যাগ করার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি।

তাঁর কথায়, সাধারণ মানুষ একদিকে নিজেদের খাদ্যাভ্যাসে মোগলাই পনিরের মতো পদ উপভোগ করবেন এবং একই সাথে ইতিহাস থেকে তাঁদের সমস্ত অবদান মুছে ফেলার কথা বলবেন, এমন স্ববিরোধিতা একসঙ্গে চলতে পারে না। মুঘল সংস্কৃতির প্রভাব যে ভারতীয় খাবার ও সংস্কৃতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে জড়িয়ে রয়েছে, তা বর্জন না করে ইতিহাস পরিবর্তনের চেষ্টা যুক্তিযুক্ত নয় বলেই ইঙ্গিত দেন তিনি।

একদিকে এনসিইআরটি-র পাঠ্যক্রমে মুঘল আমল ও দিল্লি সালতানাতের পরিবর্তে প্রাচীন ভারতীয় রাজবংশগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক চলছে। অন্যদিকে মহারাষ্ট্রে কৃত্রিম পনির ও ভেজাল খাবারের বিরুদ্ধে তুকারাম মুণ্ডের কড়া পদক্ষেপ সাধারণ গৃহস্থের আলোচনায় উঠে এসেছে। এই দুই সমসাময়িক বিষয়কে মিলিয়ে টুইঙ্কলের এই ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া সমাজমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply