মুম্বই, ১৭ জুলাই: ভারতীয় ক্রিকেট দলের দুই স্তম্ভ বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশজুড়ে তুঙ্গে উঠেছে চর্চা। ২০২৭ সালের ওয়ান ডে বিশ্বকাপকে পাখির চোখ করে যখন বিসিসিআই (BCCI) নির্বাচকরা সিনিয়র ক্রিকেটারদের ভাগ্য নির্ধারণে ব্যস্ত, ঠিক তখনই এই জলঘোলার মধ্যে প্রবেশ ঘটল টিনসেল টাউনের। ভারতীয় ক্রিকেট দলের বর্ষীয়ান দুই তারকা ক্রিকেটারকে যেভাবে বর্তমান ক্রিকেট ম্যানেজমেন্ট ট্রিট করছে, তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক ক্ষোভ উগরে দিলেন বলিউড অভিনেত্রী অমিষা প্যাটেল। পুরো বিষয়টিকে অত্যন্ত লজ্জাজনক আখ্যা দিয়ে একে ক্রিকেটের এক ‘নির্মম যুগ’ বা ‘Cruel Cricketing Era’ বলে কটাক্ষ করেছেন ‘গদর’ খ্যাত এই অভিনেত্রী।
শুক্রবার নিজের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে একটি পোস্ট করেন অমিষা প্যাটেল। সেখানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, এই পোস্টটি কোনওভাবেই বলিউড বা সিনেমার প্রচারের উদ্দেশ্যে নয়। তিনি নিজের আবেগ ধরে রাখতে না পেরে ক্রিকেট নিয়ে মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন। অমিষা লেখেন, “এই ক্রিকেট যুগে বা আমার বলা উচিত ক্রিকেট জগতের এই নির্মম যুগে, বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মার মতো সিনিয়র সুপারস্টারদের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হচ্ছে, তা দেখে আমি স্তম্ভিত। এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক।” অভিনেত্রীর এই সরাসরি আক্রমণ স্বাভাবিকভাবেই বিসিসিআই ও ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তকে একপ্রকার কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
আসলে, বিগত কিছুদিন ধরেই ভারতীয় ক্রিকেট মহলে অধিনায়ক রোহিত শর্মার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার ও বিশেষ করে ওয়ান ডে ক্রিকেট থেকে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে জোরালো জল্পনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মিডিয়া রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে যে, বোর্ড এখন রোহিতের পরবর্তী সময়কাল নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে এবং ২০২৭ সালের ওয়ান ডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এক নতুন রোডম্যাপ সাজাতে চাইছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে রোহিত শর্মার ফিটনেস এবং ক্রমবর্ধমান বয়সকে অন্যতম কারণ হিসেবে দর্শানো হচ্ছে। যদিও রোহিত বা বিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক সিলমোহর দেওয়া হয়নি, তবে জল্পনা আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়েছে ভক্তদের মাঝে। দুই সিনিয়র ক্রিকেটারের ঈর্ষণীয় রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে, এই প্রশ্নই এখন ক্রিকেট ভক্তদের রাতের ঘুম কেড়েছে।
অমিষা প্যাটেলের এই বিতর্কিত ও সাহসী পোস্টটির পর থেকেই সমাজমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। ক্রিকেট ভক্তদের একাংশ যখন অমিষার এই বক্তব্যকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং রোহিত-বিরাটের মতো জীবন্ত কিংবদন্তিদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন, অন্য অংশ আবার এর তীব্র সমালোচনাও করেছেন। নেটিজেনদের একাংশ স্পষ্ট মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ এক নয়। যেখানে বিরাট কোহলি তাঁর ঈর্ষণীয় ফর্ম এবং দুর্দান্ত শারীরিক ফিটনেসের কারণে দলে নিজের জায়গা আরও সুসংহত করে রেখেছেন, সেখানে রোহিত শর্মার ক্ষেত্রে ফিটনেস একটি বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই নির্বাচকরা যদি ভবিষ্যৎ ক্রিকেটারদের নিয়ে ভাবেন, তবে তাকে ‘নির্মম’ বলা অযৌক্তিক।
সমালোচকদের অনেকেই আবার এই ঘটনার পেছনে ভিন্ন গন্ধ পাচ্ছেন। অমিষা প্যাটেলের হুট করে ক্রিকেটীয় বিষয়ে নাক গলানোকে কেউ কেউ সস্তা জনপ্রিয়তার চেষ্টা বা পিআর (PR) স্ট্যান্ট বলে অভিহিত করেছেন। অনেকের মতে, দীর্ঘদিন লাইমলাইটের বাইরে থাকা অভিনেত্রী ক্রিকেট ভক্তদের আবেগ ব্যবহার করে নিজের প্রচারের আলো কাড়তে চাইছেন। তবে কারণ যাই হোক না কেন, অমিষা যে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থার অভ্যন্তরে চলতে থাকা ঠান্ডা লড়াইকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছেন, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

