মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল কমিউনিকেশন ডিপার্টমেন্টের চেয়ারপারসন সিদ্দিক আলী-র বাড়িতে বুধবার গভীর রাতে (২৬ নভেম্বর ২০২৫, রাত আনুমানিক ১১টা ২৫ মিনিট) মুর্শিদাবাদ থানার পুলিশ হানা দেয় বলে অভিযোগ। দীর্ঘকাল আগে জামিনপ্রাপ্ত একটি মামলায় পুলিশ তাঁকে খুঁজে বেড়াচ্ছে এবং তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে পরিবার সূত্রে খবর। ঘটনাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কংগ্রেস।
সিদ্দিক আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূল নেত্রী সাওনী সিংহ রায় এর মিথ্যা মামলায় তিনি প্রায় তিন বছর নয় মাস আগে—২রা ফেব্রুয়ারি ২০২২ সালে—জামিন পেয়েছিলেন। এত দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর হঠাৎ ২৬শে নভেম্বর গভীর রাতে পুলিশ এসে সেই পুরনো জামিন সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চায় এবং তাঁকে খুঁজে বেড়ায়।
এই অস্বাভাবিক পুলিশি তৎপরতার সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জেলা কংগ্রেস নেতৃত্ব। তাদের অভিযোগ, আগামীকাল, ২৭শে নভেম্বর ২০২৫, মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসের উদ্যোগে SIR (Special Intensive Revision) নিয়ে বহরমপুর টেক্সটাইল মোড়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এই জনসভায় সিদ্দিক আলীর সোশ্যাল মিডিয়া এবং ডিজিটাল যোগাযোগের দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল।
পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দায়িত্ব থেকে দূরে রাখা এবং জনসভায় যোগদান আটকাতেই ক্ষমতাসীন দলের নির্দেশে পুলিশ এমন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকাণ্ড করেছে।
এই ঘটনা নিয়ে সিদ্দিক আলী বলেন, “মুর্শিদাবাদ জুড়ে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্নীতি এবং বিজেপির মেরুকরণের রাজনীতি তুলে ধরছি বলেই—তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির যৌথ পরিকল্পনা অনুযায়ী মুর্শিদাবাদ থানার পুলিশ গভীর রাতে আমার বাড়িতে এসে আমাকে হেনস্থা করার চেষ্টা করেছে। ঘটনাটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমি এই মামলায় প্রায় পৌনে চার বছর আগে জামিন নিয়েছি; তারা হয়তো ভেবেছিল আমার কাছে কাগজপত্র নেই এবং সেই সুযোগে আমাকে গ্রেফতার করে মুর্শিদাবাদ জেলাজুড়ে যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে ধর্মনিরপেক্ষ লড়াই করছে, তাদের প্রতি ভয়-ভীতি প্রদর্শনের একটি বার্তা দেবে।”
তিনি আরও বলেন,
“কিন্তু আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই—আমি সত্যের পথে ছিলাম, আছি এবং আগামী দিনেও থাকব। পুলিশি হেনস্থা বা রাজনৈতিক চাপ আমাকে সত্যের লড়াই থেকে এক ইঞ্চি সরাতে পারবে না।
সমাজের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে, ন্যায় ও সত্যের পক্ষে লড়াই করতে গিয়ে যদি আমাকে পুলিশি হেফাজতে থাকতে হয়—আমি সেটাকেও গৌরব হিসেবে গ্রহণ করব।
এই দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অসংখ্য দেশপ্রেমিক কারাবরণ করেছেন; ভগবান শ্রীকৃষ্ণও কারাগারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাই সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার জন্য যদি আমাকে কারাগারে যেতে হয়—আমি সেটিকে তীর্থযাত্রা হিসেবে মেনে নেব। দুর্নীতিগ্রস্ত শাসক দলের জেলখানার শৃঙ্খল আমাকে ভয় দেখাতে পারবে না।”

মুর্শিদাবাদ থানার এই আচরণকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছে জেলা কংগ্রেস। তারা অভিযোগ করেছে, শুধুমাত্র বিরোধী রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য হওয়ার কারণে পুলিশ প্রশাসনের এই নির্লজ্জ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আচরণ রাজ্যের গণতন্ত্রের পক্ষে এক নিন্দনীয় নজির সৃষ্টি করল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের নেতাদের এইভাবে হয়রানি করা হলে তা রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য মোটেও শুভ লক্ষণ নয়। পুলিশি পদক্ষেপের পিছনে আসল উদ্দেশ্য কী, তা নিয়ে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে জেলা জুড়ে।
