আলবিদা গরম ধরম; একটি স্মৃতিচারণ

আলবিদা গরম ধরম; একটি স্মৃতিচারণ

~হাফিজুর রহমান,

তাঁর ৯০তম জন্মদিন হওয়ার কথা ছিল ৮ ডিসেম্বর, ঠিক ১৪ দিন পর; তার আগেই চলে গেলেন ধর্মেন্দ্র।

নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় ছেলেরা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। গদি মিডিয়া অতি-উৎসাহে তাঁর মৃত্যু ঘোষণা করে দিয়েছিল। প্রেসের এই অতি-উৎসুকতায় একজন জীবন্ত মানুষকে মৃত ঘোষণা করা নিয়ে ছেলে সানি আর ববি দেওল বিরক্ত হন। আর এবার যখন সত্যি ঘটনা ঘটল, তখন কেউ জানার আগেই নীরবে, নিঃশব্দে বলিউডের অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। বলিউড কভার করলেও কখনও কারও মৃত্যু দেখার সুযোগ হয়নি, কাজেই এই ব্যাপারে আমার অভিজ্ঞতা নেই। তবে ছবিতে স্টার চলে গেলে তাঁর মৃত্যুর চেয়েও বড় হয়ে ওঠে কে কে শেষকৃত্যে আসছে, সেই ছবি তোলার অতি উৎসাহ। ববি, সানি বাবার মৃত্যু নিয়ে তামাশা করতে চাননি, তাই গদি মিডিয়াকে বয়কট করেছেন।

ধর্মেন্দ্রর ফিল্মি জগতে পা রাখা যেন এক চলচ্চিত্রের গল্প। কিশোর ধর্মেন্দ্র জীবনের প্রথম ফিল্ম দিলীপ কুমার অভিনীত ‘শহীদ’ ছবিটি দেখেছিলেন। সেই ছবিটি কিশোর মনে এত প্রভাব ফেলে যে সে ঠিক করে বড় হয়ে সে ফিল্ম স্টার হবে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে প্রশ্ন করত ‘আমি ভবিষ্যতে দিলীপ কুমার হব কি না?’।

পড়াশোনায় মন ছিল না সেই কিশোরের। তাঁর বাবা ছিলেন শিক্ষক, কাজেই মায়ের কাছে নিজের মনের গোপন ইচ্ছে খুলে বলেন কিশোর ধর্মেন্দ্র। ছেলের মন ভাঙতে চাননি মা, তাই নীরবে জমানো টাকা তুলে দিয়েছিলেন তাঁর হাতে।

এর মধ্যেই বোম্বাই থেকে ফিল্মে অভিনয়ের সুযোগ এলো। একটি প্রতিযোগিতা হচ্ছিল। ধর্মেন্দ্র তাঁর এক বন্ধুর স্টুডিওতে গিয়ে ছবি তুলে ফর্ম ভর্তি করে বোম্বেতে পাঠিয়ে দেন।

বোম্বে থেকে ডাক আসে। সেখানে একলব্য ধর্মেন্দ্র, গুরু দিলীপ কুমারকে অনুসরণ করে অডিশন দেন এবং গোটা দেশের সব প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে এক নম্বর স্থান পান। ব্যাস, শুরু হয় তাঁর ফিল্মি সফর।

সালটা ১৯৫৮। প্রথমে তেমন সাফল্য না পেলেও সুযোগ আসে বিখ্যাত অভিনেত্রী মীনা কুমারীর বিপরীতে। মীনা কুমারী ও ধর্মেন্দ্রর ফিল্ম ‘ফুল অউর পাত্থার’ বিশাল হিট হয়। সেই ফিল্মে তাঁর শার্ট খোলা ইমেজ তাঁকে রাতারাতি ‘হি-ম্যান’ বানিয়ে দেয়। আর যারা তাঁকে অভিনয় ছেড়ে কুস্তি করতে বলেছিল, তারা অবশেষে তাঁর অভিনয়কে মেনে নিতে বাধ্যও হয়েছিল। মীনা কুমারী নবাগত অভিনেতাটিকে বেশ কিছু ফিল্মে অভিনয়ের সুযোগ করে দেন। সেই শুরু, ধর্মেন্দ্র একের পর এক হিট উপহার দিয়ে ফিল্মি দুনিয়ায় নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। মাটির সঙ্গে জুড়ে ছিলেন, তাই সত্তরের দশকের রাজেশ খান্নার ঝড়ে উড়ে যাননি, বরং একের পর এক হিট উপহার দিয়েছেন তিনি। রোমান্টিক ফিল্ম না করে স্ট্র্যাটেজি পাল্টে অ্যাকশন আর কমেডি ধাঁচের ফিল্মে অভিনয় করে বাজিমাত করে দিয়েছেন।

প্রায় ছয় দশক অভিনয় করলেও পুরস্কার ভাগ্য তাঁর ছিল না। জীবনের শেষ মুহূর্তে ফিল্মফেয়ার ট্রফি জুটেছিল, তাঁর আইডল দিলীপ কুমারের হাত থেকে। দিলীপ ধর্মেন্দ্রকে স্নেহের চোখে দেখতেন। তিনি ধর্মেন্দ্রর সম্পর্কে জানান বিধাতা যদি ওর মত চেহারা দিয়ে পাঠাতেন, তাহলে তিনি খুশি হতেন। আজ, ২৫ তারিখ (নভেম্বর), তাঁর আগামী ফিল্ম ‘ইক্কিশ’-এর পোস্টার রিলিজ হলো। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, তিনি দেখে যেতে পারলেন না। সামনে বড়দিনের ছুটিতে ‘ইক্কিশ’ মুক্তি পাবে, জানিয়েছেন পরিচালক শ্রীরাম রাঘবন। এটি ছাড়াও তাঁর আরও দুটি ফিল্ম মুক্তির অপেক্ষায় আছে।

যতদূর জানি, আরও গোটা তিনেক ফিল্ম অনেক দিন আগে থেকে পড়ে আছে। এখন হয়তো লোকের ইমোশন (বা আবেগ) কাজে লাগাতে ছবিগুলি দিনের আলো দেখবে।

মন খারাপ, বেশি কথা না বাড়িয়ে শেষ করছি তাঁর ফিল্ম ‘ব্ল্যাক মেইল’-এর গানের কলি দিয়ে:

“পল পল দিল কে পাস তুম রহতি হো, জীবন মিঠি প্য্যাস ইয়ে ক্যাহতি হো…”

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply