নতুন দিল্লি, ২৬ জুলাই: ভারতের টেলিকম জগতে রিলায়েন্স জিও এবং ভারতী এয়ারটেলের লড়াই নতুন নয়। প্রিপেইড প্ল্যানের বাজারে গ্রাহকদের ধরে রাখতে এবং নতুন সাবস্ক্রাইবার টানতে দুটি সংস্থাই ক্রমাগত নতুন সুবিধা নিয়ে আসছে। সম্প্রতি দীর্ঘমেয়াদি মিড-রেঞ্জ প্রিপেইড প্ল্যানের ক্ষেত্রে দুই সংস্থার মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও তীক্ষ্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রিলায়েন্স জিওর ৯৯৯ টাকার প্ল্যানটি তার বানিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বী এয়ারটেলের ৮৯৯ টাকার প্রিপেইড প্ল্যানকে অতিরিক্ত সুবিধা, ডেটা বরাদ্দ এবং ভ্যালিডিটির নিরিখে অনেকটাই পেছনে ফেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
দীর্ঘমেয়াদি প্রিপেইড রিচার্জ করার ক্ষেত্রে গ্রাহকরা মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর নজর দেন— প্ল্যানের স্থায়িত্ব বা মেয়াদ, প্রতিদিনের ডেটা সীমা এবং তার সাথে মিলতে থাকা অতিরিক্ত ডিজিটাল ও ওটিটি (OTT) পার্কস। এই তিনটি পরিমাপকেই জিও অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে নিজেদের পক্ষে নিয়ে এসেছে।
রিলায়েন্স জিওর ৯৯৯ টাকার প্রিপেইড প্ল্যানটিতে গ্রাহকদের জন্য রয়েছে মোট ৯৮ দিনের দীর্ঘ ভ্যালিডিটি। ফলে একবার রিচার্জ করলে টানা তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে পরিষেবা সচল থাকে। এই প্ল্যানে প্রতিদিন ২ জিবি করে হাই-স্পিড ৪জি ডেটা দেওয়া হয়, যা পুরো মেয়াদে প্রায় ১৯৬ জিবি ডেটার সমান। এ ছাড়া জিওর ট্রু ৫জি (True 5G) কভারেজ এলাকায় থাকা যোগ্য গ্রাহকরা সম্পূর্ণ আনলিমিটেড ৫জি ডেটা ব্যবহার করতে পারেন। সাথে আনলিমিটেড ভয়েস কলিং এবং প্রতিদিন ১০০টি করে বিনামূল্যে এসএমএস করার সুবিধা তো রয়েছেই।
তবে এই প্ল্যানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর সাথে যুক্ত অতিরিক্ত ডিজিটাল অফারগুলো। জিওর ৯৯৯ টাকার প্যাকের সাথে গ্রাহকরা বিনামূল্যে ৩ মাসের জিওহটস্টার (JioHotstar) মোবাইল সাবস্ক্রিপশন, ৫০ জিবি জিও-এআই-ক্লাউড (JioAICloud) স্টোরেজ এবং ১৮ মাসের জন্য গুগলের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিষেবা ‘গুগল জেমিনি প্রোভাইডার’ (Google Gemini Pro)-এর বিনামূল্যে অ্যাক্সেস পাচ্ছেন। হাজার হাজার টাকার মূল্যের প্রিমিয়াম সার্ভিস রিচার্জের সাথে ফ্রিতে পাওয়া গ্রাহকদের জন্য একটি বড় প্রাপ্তি।
অন্যদিকে, ভারতী এয়ারটেলের ৮৯৯ টাকার প্রিপেইড রিচার্জ প্ল্যানে মেয়াদ পাওয়া যাচ্ছে ৮৪ দিন। অর্থাৎ জিওর চেয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ কম ভ্যালিডিটি দিচ্ছে এয়ারটেল। এই প্ল্যানে প্রতিদিন ১.৫ জিবি করে দৈনিক ডেটা বরাদ্দ থাকে। আনলিমিটেড কলিং এবং দিনে ১০০টি এসএমএস থাকলেও, দৈনন্দিন ডেটার পরিমাণ জিওর দৈনিক ২ জিবির চেয়ে অনেকটাই কম।
অতিরিক্ত সুবিধার ক্ষেত্রে এয়ারটেল তাদের নিজস্ব ‘এয়ারটেল এক্সস্ট্রিম’ (Airtel Xstream) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন ওটিটি কনটেন্টের অ্যাক্সেস প্রদান করে, যা মূলত কনটেন্ট এগ্রিগেটর হিসেবে কাজ করে। কিন্তু রিলায়েন্স জিওর মতো সরাসরি প্রিমিয়াম ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং আন্তর্জাতিক মানের এআই (AI) টুলের সম্পূর্ণ নিখরচায় সাবস্ক্রিপশন দিতে পারছে না তারা।
প্রতিদিনের খরচের গড় হিসাব করলে দেখা যায়, জিওর ৯৯৯ টাকার প্ল্যানে মেয়াদ বেশি হওয়ায় দৈনিক খরচ পড়ে প্রায় ১০.১৯ টাকা। আর এয়ারটেলের ৮৯৯ টাকার প্ল্যানে মেয়াদ কম হওয়ায় দৈনিক গড় খরচ পড়ে ১০.৭০ টাকার কাছাকাছি। অর্থাৎ এয়ারটেলের প্ল্যানটি আপাতদৃষ্টিতে ১০০ টাকা সস্তা মনে হলেও প্রতিদিনের খরচ ও সুবিধার বিচারে জিওর প্ল্যানটিই বেশি সাশ্রয়ী।
পাশাপাশি, বর্তমান ডিজিটাল যুগে তরুণ ও পেশাদারদের কাছে অতিরিক্ত এআই টুল ও উচ্চমানের ডেটা সংযোগ অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। ১৮ মাসের গুগল জেমিনি প্রোর মতো অ্যাডভান্সড এআই সাবস্ক্রিপশন বিনামূল্যে অন্তর্ভুক্ত করা রিলায়েন্স জিওর একটি অত্যন্ত সুচিন্তিত মাস্টারস্ট্রোক।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, নেটওয়ার্কের গুণমানের দিক থেকে উভয় সংস্থাই কঠিন টক্কর দিলেও, রিচার্জ প্যাকের ভ্যালু-ফর-মানি এবং ডিজিটাল লাইফস্টাইল সুবিধার বিচারে ৮৯৯-৯৯৯ টাকার ব্যাকেটে আপাতত জিওই এগিয়ে রয়েছে।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
