কলকাতা, ২৫ জুলাই: রাজধানী দিল্লির পাশাপাশি এবার তিলোত্তমা কলকাতার রাজপথেও আঁচ পৌঁছেছে শিক্ষার্থী সংগঠন ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিবাদ মিছিলের। নিট (NEET) পরীক্ষা ও রাজ্যভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে শহরজুড়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ ঘিরে পারদ চড়ছে। এই রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার আবহে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে রাজ্য সরকারের ভূমিকা এবং কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, মিছিলে অংশ নেওয়া একশ্রেণির উস্কানিদাতারা পুলিশকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করলেও পুলিশ অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে সেই ফাঁদে পা দেয়নি। পাশাপাশি আন্দোলন ও অনিয়মের নেপথ্যে থাকা প্রকৃত দোষীরা যে অচিরেই শাস্তি পাবে, সেই আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
দিল্লির জন্তর মন্তরে সোনাম ওয়াংচুক ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের জের টেনে কলকাতায় সিজেপি-র ব্যানার নিয়ে মিছিলে নামেন শত শত শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ। শিয়ালদা থেকে ধর্মতলাগামী এই মিছিলে নিরাপত্তা রক্ষা এবং যানজট সামলাতে কলকাতা পুলিশকে কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। মিছিল চলাকালীন একপ্রকার চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ বাহিনীর সাথে দফায় দফায় ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। তবে কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ যথেষ্ট সংযম প্রদর্শন করেছে।
সমগ্র ঘটনা এবং পুলিশের ভূমিকা পর্যালোচনা করে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “একটি পরিকল্পিত উস্কানিমূলক পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছিল। পুলিশের ওপর হামলা বা অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটিয়ে পরিবেশ অশান্ত করার ছক ছিল অনেকেরই। কিন্তু পুলিশ সেই উস্কানিতে পা না দিয়ে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। আন্দোলনকারীদের ফাঁদে পুলিশ পা দেয়নি।”
শুভেন্দু অধিকারী আরও যোগ করেন, শিক্ষার্থীরা যখন সুনির্দিষ্ট অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলছেন, তখন তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে সম্মান জানানো উচিত। তবে আন্দোলনের আড়ালে রাজনীতি বা অশান্তি সৃষ্টি করাকে কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না।
পরীক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক দুর্নীতি এবং সিজেপি-র উত্থাপিত দাবি প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা জোর দিয়ে বলেন, আইন নিজস্ব গতিতে চলবে। যাঁরা দেশের পরীক্ষার্থী তথা যুবসমাজের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, তাঁরা ছাড় পাবে না। শুভেন্দুর কথায়, “প্রকৃত দোষী যাঁরা, তাঁদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। কেন্দ্র ও রাজ্য— উভয় স্তরেই প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে যাতে অপরাধীরা সর্বোচ্চ সাজা পায়।”
কলকাতা শহরের বুকে শিক্ষার্থী আন্দোলনের এই নতুন ধারা এবং শুভেন্দু অধিকারীর এমন মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, কেন্দ্র সরকারের পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থা এনটিএ (NTA)-র চরম ব্যর্থতা ঢাকতেই এই ধরনের সাফাই গাওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের দাবি, আন্দোলনকে শান্তিপূর্ণ রাখতে পুলিশের সংযমী ভূমিকার প্রশংসা করা যেমন প্রয়োজন, তেমনই প্রশ্নপত্র ফাঁস ও দুর্নীতিগ্রস্তদের দ্রুত গ্রেফতার করা অত্যন্ত জরুরি।
কলকাতার বুকে সিজেপি-র এই প্রতিবাদ আগামী দিনে কোন রাজনৈতিক মোড় নেয়, এখন সেদিকেই চোখ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
