ধর্মতলায় না, বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে শর্তসাপেক্ষে ২১ জুলাইয়ের সভার অনুমতি কালীঘাট তৃণমূলকে

ধর্মতলায় না, বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে শর্তসাপেক্ষে ২১ জুলাইয়ের সভার অনুমতি কালীঘাট তৃণমূলকে

কলকাতা, ১৫ জুলাই, ২০২৬: দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েন এবং রাজনৈতিক জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে উচ্চ আদালতের সবুজ সংকেত পেল মমতাপন্থী বা কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস। আগামী ২১ জুলাইয়ের ‘শহিদ দিবস’ উপলক্ষে কলকাতার বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের (তারামণ্ডল) সামনেই সমাবেশ করতে পারবে তারা। তবে ট্রাফিকের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে এবং জনজীবন সচল রাখতে বুধবার একগুচ্ছ কঠোর শর্ত আরোপ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট।

এদিন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে চিরাচরিত জায়গায় সভা করার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। কিন্তু লালবাজারের পক্ষ থেকে সেখানে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি থাকায় তীব্র আপত্তি জানানো হয়। বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কলকাতার মূল প্রাণকেন্দ্র এবং ব্যস্ততম চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউকে সভার জন্য কোনোভাবেই স্তব্ধ করতে দেওয়া যাবে না। এরপর আদালতের পর্যবেক্ষণে বিকল্প জায়গার কথা উঠলে শেষ পর্যন্ত বিড়লা তারামণ্ডলের সামনের অংশে সভার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

হাইকোর্টের বেঁধে দেওয়া কঠোর শর্তাবলি:

আদালত জানিয়েছে, সভার অনুমতি দেওয়া হলেও উদ্যোক্তা ও পুলিশ প্রশাসনকে সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হবে:

  • জমায়েতের ঊর্ধ্বসীমা: বিপুল জনস্রোতের কারণে যাতে সাধারণ মানুষের পথচলতি সমস্যা বা মেট্রো রেলে যানজট না হয়, তাই সভায় ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ জনের বেশি মানুষের জমায়েত করা যাবে না।
  • নির্দিষ্ট সময়সীমা: ২১ জুলাইয়ের এই সমাবেশ কেবল দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টে পর্যন্ত চালানো যাবে। সাড়ে তিন ঘণ্টার এই আঁটসাঁট সময়ের পর কোনোভাবেই সভার কাজ দীর্ঘায়িত করা যাবে না।
  • রাস্তা সচল রাখা: তারামণ্ডলের সামনের রাস্তার একধারে সভার মঞ্চ ও বসার জায়গা গড়ে তুলতে হবে। রাস্তার অন্য পাশটি সম্পূর্ণ গাড়ি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে।
  • যোগাযোগের তথ্য: আগামী ১৮ জুলাই বিকেল ৪টের মধ্যে সভার মূল আয়োজকদের নাম এবং তাঁদের মোবাইল নম্বর কলকাতার জয়েন্ট সিপি হেডকোয়ার্টারে জমা দিয়ে নথিভুক্ত করাতে হবে।

রাজনৈতিক শিবিরের তৎপরতা

তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ভাঙন ও সংকটের আবহে এবারের ২১ জুলাইয়ের তাৎপর্য অনেকটাই আলাদা। একদিকে যখন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে সভার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং অন্য দিকে কংগ্রেস শহিদ মিনারে সমাবেশের ডাক দিয়েছে, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা তারামণ্ডলের সামনে নিজেদের শক্তিরক্ষার পরীক্ষায় নামছেন।

আদালতের এই রায় সামনে আসার পরেই কালীঘাট শিবিরের আইনজীবীরা জানান, আদালতের সব নির্দেশ মেনেই নির্দিষ্ট সময়ে শান্তিপূর্ণভাবে শহিদ স্মরণ কর্মসূচি সম্পন্ন করা হবে। অন্যদিকে, ওইদিন মহানগরের ট্রাফিক ব্যবস্থা সচল রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার পুরো দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে লালবাজারের ট্রাফিক বিভাগ ও পুলিশ প্রশাসনের ওপর।

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply