কলকাতা, ১৫ জুলাই, ২০২৬ : রাজ্য রাজনীতিতে এবার ২১ জুলাইয়ের ‘শহিদ দিবস’ নিয়ে কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে এক নতুন সংঘাতের আবহ তৈরি হল。 এক সময়ের সহযোদ্ধা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য প্রকাশ্য আমন্ত্রণ জানাল প্রদেশ কংগ্রেস। তবে এই আমন্ত্রণের পেছনে জুড়ে দেওয়া হয়েছে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক শর্ত। কংগ্রেসের স্পষ্ট বার্তা, তিন দশক আগে কংগ্রেস দল ছেড়ে যাওয়া যে একটি মস্ত বড় ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ ছিল, তা মমতাকে জনসমক্ষে স্বীকার করতে হবে।
শহিদ মিনারে কংগ্রেসের ২১ জুলাইয়ের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সত্যিই সাহস থাকে, তবে তাঁর উচিত ইতিহাস বিকৃত না করা। অতীতের ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কথা স্বীকার করে তিনি শহিদ মিনারের মঞ্চে এসে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই পারেন, তাঁকে স্বাগত।”
১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযানের সময় পুলিশের গুলিতে ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যু হয়েছিল। সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী। পরবর্তীকালে ১৯৯৭ সালে তিনি কংগ্রেস ত্যাগ করে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেন এবং এই দিনটিকে প্রতি বছর সাড়ম্বরে ‘শহিদ দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছেন। এতদিন তৃণমূলের এই মেগা র্যালির দাপটে কংগ্রেসের অনুষ্ঠান কিছুটা ম্লান থাকলেও, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভোলবদল ঘটেছে। বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূলের অন্দরে এখন বহুমুখী বিদ্রোহ।
শুভঙ্কর সরকারের দাবি:
“১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের সেই আন্দোলন হয়েছিল যুব কংগ্রেসের পতাকার তলায়। এটা ইতিহাসের অংশ, যা অস্বীকার করার কোনো জায়গা নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্য ব্যানারে এই অনুষ্ঠান করে ইতিহাসকে নতুন করে লেখার চেষ্টা করছেন।”
প্রদেশ কংগ্রেসের তরফ থেকে বলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জনসমক্ষে স্বীকার করেন যে কংগ্রেস ছাড়া তাঁর ভুল ছিল, তবে সেটি হবে একটি বড় রাজনৈতিক প্রায়শ্চিত্ত। এতে অতীতের ভুল সংশোধনের একটি প্রয়াস অন্তত দেখা যাবে। কংগ্রেসের মঞ্চ সবার জন্য উন্মুক্ত, কিন্তু ইতিহাসের উত্তরাধিকারকে সম্মান জানাতে হবে।
এদিকে ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ নিয়ে কলকাতায় ব্যাপক জটিলতা তৈরি হয়েছে। ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে চিরাচরিত জায়গায় সভা করার অনুমতি পুলিশ দেয়নি মমতা-শিবিরকে, যা এখন আদালত চত্বরে বিচারাধীন। অন্যদিকে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ধর্মতলায় গান্ধী মূর্তির পাদদেশে আলাদা সভার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই ত্রিমুখী লড়াইয়ের মাঝে কংগ্রেসের এই ‘শর্তসাপেক্ষ’ আমন্ত্রণ রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

