কলকাতা, ৫ সেপ্টেম্বর:
রাজ্যে ডেঙ্গুর বাড়বাড়ন্ত রুখতে স্কুলপড়ুয়াদের পোশাকে সাময়িক পরিবর্তনের আবেদন জানালেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। মশাবাহিত এই রোগের সংক্রমণের প্রকোপ কমাতে আগামী তিন মাস ছাত্রছাত্রীদের এমন পোশাক পরার অনুমতি দিতে স্কুল কর্তৃপক্ষগুলির কাছে আর্জি জানান তিনি, যাতে হাত ও পা সম্পূর্ণ ঢাকা থাকে। মূলত বর্ষার পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির মোকাবিলায় স্বাস্থ্যভবনে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে এই বার্তা দেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্কুলগুলির কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর এবং নভেম্বর—এই তিন মাস বিদ্যমান পোশাকবিধি যাই থাকুক না কেন, পড়ুয়াদের ফুলহাতা জামা ও ফুল প্যান্ট পরার অনুমতি দেওয়া হোক। বিশেষ করে যে সমস্ত স্কুলে ছাত্রীদের জন্য স্কার্ট নির্দিষ্ট রয়েছে, সেখানে স্কার্ট পরিয়ে মেয়েদের স্কুলে না পাঠিয়ে তাদের পা সম্পূর্ণ ঢেকে রাখা সালোয়ার স্যুট বা সালোয়ার কামিজ পরার ছাড়পত্র দেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষক, প্রধান শিক্ষিকা এবং শিক্ষকদের কাছে করজোড়ে অনুরোধ করেন তিনি।
মশার কামড় থেকে বাঁচতে হাঁটু পর্যন্ত লম্বা মোজা ব্যবহারের বিকল্প প্রস্তাব খারিজ করে দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, লম্বা মোজা শরীরের চামড়ার সঙ্গে সেঁটে থাকে এবং তা অত্যন্ত পাতলা হওয়ায় তার ওপর দিয়েও মশা অনায়াসে কামড়াতে পারে। তাই সুরক্ষার ক্ষেত্রে এটি কার্যকর সমাধান নয়। তার পরিবর্তে হাত ও পা ঢেকে রাখার মতো ঢিলেঢালা পোশাক, যেমন ছেলেদের ক্ষেত্রে ফুলহাতা শার্ট ও ফুল প্যান্ট এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে ফুলহাতা সালোয়ার স্যুটই সবচেয়ে উপযুক্ত প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
সরকারি স্কুলগুলির জন্য রাজ্য সরকারের তরফে শিগগিরই এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা বা অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্কুলার জারি করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকেও এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে বেসরকারি ক্ষেত্রে পোশাক পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের ওপরই নির্ভর করবে। চিকিৎসায় অযথা দেরি না করে ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার বার্তাও দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

