বিজেপির বিধায়ক রেখা পাত্র বাপের বারির জমি বিবাদে আত্নীয়ের সাথে হাতাহাতি, পুলিশ সামলালে আসলে পুলিশকে ঠেলা দিয়ে সরিয়ে দিল।

বিজেপির  বিধায়ক রেখা পাত্র বাপের বারির জমি বিবাদে আত্নীয়ের সাথে হাতাহাতি, পুলিশ সামলালে আসলে পুলিশকে ঠেলা দিয়ে সরিয়ে দিল।

সন্দেশখালি, ৮ সেপ্টেম্বর:

বিজেপির বিধায়ক রেখা পাত্র তাঁর বাপের বাড়ির জমি সংক্রান্ত পুরোনো বিবাদকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠল সন্দেশখালি। জমি দখল এবং চাষ করাকে ঘিরে বচসার জেরে সরাসরি কর্তব্যরত পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও এক পুলিশ আধিকারিকের কলার ধরার গুরুতর অভিযোগ উঠল হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক রেখা পাত্রের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার সন্দেশখালি দুই নম্বর ব্লকের বউঠাকুরন গ্রামে রেখা পাত্রের বাপের বাড়ির প্রায় ন’বিঘা কৃষিজমি রয়েছে। সেই জমির মালিকানা ও রেকর্ড নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই শরিক কালিপদ নস্কর এবং তাঁর ছেলে সুভাষ নস্করের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। ২০১৪ সালে রেখা পাত্রের বাবা দিলেন পাত্র ওই জমি নিজের নামে রেকর্ড করাতে গেলে বিরোধ চরমে পৌঁছায়। বিষয়টি স্থানীয় থানা হয়ে শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাই কোর্ট অবধি গড়ায়।

প্রতিপক্ষ পরিবারের দাবি, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর আদালতের নির্দেশে সুভাষ নস্কর ওই বিতর্কিত জমিতে চাষ করার অধিকার লাভ করেন। সেই আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে এবং জমিতে চাষের কাজ নির্বিঘ্ন রাখতে পুলিশের উপস্থিতিতে সুভাষ নস্কর জমিতে নামেন। সেই খবর পাওয়া মাত্রই বিধায়ক রেখা পাত্র তাঁর বেশ কয়েকজন অনুগামীকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন।

ঘটনাস্থলে বিধায়ক পৌঁছাতেই দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বাদানুবাদ দ্রুত হাতাহাতি ও তীব্র সংঘর্ষের রূপ নেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন থাকা পুলিশকর্মী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ উঠেছে, বিধায়ক রেখা পাত্র সেখানে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এক পুলিশ আধিকারিকের জামার কলার চেপে ধরেন এবং চরম বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন।

প্রকাশ্যে আসা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, তীব্র উত্তেজনার মাঝে পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়াচ্ছেন বিধায়ক এবং এক পর্যায়ে পুলিশের কলার ধরার পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে ঘটনা শুরুর আগে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং কেন বিধায়ক ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিলেন, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। স্থানীয় স্তরে এই ঘটনায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply