সোনারপুর, ১৫ সেপ্টেম্বর:
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে ভুয়ো ডিগ্রির জাল শংসাপত্র ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চালানোর অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।ধৃতের নাম বিশ্বরূপ আচার্য।সোমবার রাতে সোনারপুর থানার অন্তর্গত ঘাসিয়াড়া এলাকা থেকে তাঁকে পাকড়াও করা হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ব্যক্তি নিজেকে ক্যানসার বিশেষজ্ঞ বা অঙ্কোলজিস্ট হিসেবে পরিচয় দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা করছিলেন।তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক জাল শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে যে, অভিযুক্ত বিশ্বরূপ আচার্য রোগীদের বিভ্রান্ত করতে নিজের প্রেসক্রিপশন ও নথিপত্রে এমবিবিএস এবং এফআরসিএস-এর মতো উচ্চতর চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভুয়ো ডিগ্রি ব্যবহার করতেন।সোনারপুর ও তার আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর মোট আটটি চেম্বার সক্রিয় ছিল।প্রতিটি চেম্বারেই চিকিৎসার নামে তিনি রোগীপিছু আটশো টাকা করে ফি আদায় করতেন।জটিল রোগের ভুয়ো চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে প্রতারণা করছিলেন বলে অভিযোগ।
সম্প্রতি সোনারপুরের ঘাসিয়াড়া এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে নতুন একটি চেম্বার খোলেন অভিযুক্ত।এলাকায় তাঁর একের পর এক চেম্বার খোলা এবং সামগ্রিক আচরণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন ওই বাড়ির মালিক।সন্দেহ গভীর হওয়ায় তিনি বিষয়টি সোনারপুর থানায় জানান।অভিযোগ পাওয়ার পরই অভিযানে নামে পুলিশ। সত্যতা যাচাই করতে পুলিশের পক্ষ থেকে ছদ্মবেশে হানা দিয়ে নথিপত্র খতিয়ে দেখা হয় এবং তথ্যে অসঙ্গতি মিলতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তল্লাশি চালিয়ে ধৃতের কাছ থেকে বেশ কিছু ভুয়ো ডিগ্রি সার্টিফিকেট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।এই ভুয়ো সার্টিফিকেটগুলি কোথা থেকে এবং কীভাবে তৈরি করানো হয়েছিল, তার উৎস খুঁজতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।এই চক্রের জাল কত দূর বিস্তৃত এবং অন্য কোনো ভুয়ো চক্র এর পেছনে সক্রিয় রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সম্প্রতি পূর্ব বর্ধমানের তালি এলাকা থেকে শেখ সায়দুল হক নামে এক ভুয়ো চিকিৎসক ধরা পড়েছিলেন। একইভাবে উত্তর ২৪ পরগনা থেকেও জ়ুলফিকার মণ্ডল নামে আরও এক ভুয়ো চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ভুয়ো ডাক্তারির সার্টিফিকেটগুলি বিহার থেকে তৈরি করানো হয়েছিল বলে তদন্তে জানা গিয়েছিল।সেই চক্রের সঙ্গে সোনারপুরে গ্রেপ্তার হওয়া বিশ্বরূপ আচার্যের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে সোনারপুর থেকে ভুয়ো ডাক্তার গ্রেপ্তারের ঘটনা সামনে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একের পর এক ভুয়ো চিকিৎসক ধরা পড়ার পেছনে পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত সরকারের চরম গাফিলতিকেই দায়ী করেছে ভারতীয় জনতা পার্টির স্থানীয় নেতৃত্ব। সামগ্রিক ঘটনার বিষয়ে আইনানুগ তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে সোনারপুর থানার পুলিশ।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
