জেলার সরকারি স্কুলে মিড ডে মিলের দায়িত্ব থেকে বাতিল করা হল ইসকনকে

জেলার সরকারি স্কুলে মিড ডে মিলের দায়িত্ব থেকে বাতিল করা হল ইসকনকে

কলকাতা, ১৬ সেপ্টেম্বর:

রাজ্যে সরকারি স্কুলগুলিতে মিড ডে মিল সরবরাহের বিষয়ে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত বদলের পর অবশেষে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করল আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ বা ইসকন।রাজ্য সরকার গঠনের পর প্রথমে কলকাতা এবং পরবর্তী পর্যায়ে বিভিন্ন জেলায় ইসকনের মাধ্যমে মিড ডে মিল বিতরণের কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।তবে ইসকনের অধীনস্থ   অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশনকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত সোমবার প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় এবং জানানো হয় যে আপাতত পূর্বের নিয়ম মেনেই স্কুলগুলিতে খাবার সরবরাহ করা হবে।এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পরই ইসকনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত বিবৃতি সামনে আনা হয়েছে।

প্রকাশিত বিবৃতিতে ইসকন স্পষ্ট করেছে যে, তাদের পরিচালনাধীন অন্নমৃতা ফাউন্ডেশন কলকাতা পুরসভা এলাকায় বর্তমান মিড ডে মিল পরিষেবা অব্যাহত রাখবে।সেই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য জেলাগুলিতেও এই পরিষেবার সম্প্রসারণ ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।আগামী দিনে রাজ্য সরকারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে মিড ডে মিল বিতরণের কাজ চালিয়ে যেতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।উল্লেখ্য, প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী উত্তর ২৪ পরগনার বিধাননগর, দমদম, রাজারহাট-নিউ টাউন ছাড়াও হাওড়া, পুরুলিয়া এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম-১ ও নন্দীগ্রাম-২ ব্লকে ইসকন তথা অন্নমৃতা ফাউন্ডেশনের খাবার বিতরণের কথা ছিল। কিন্তু আচমকা সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরকার পিছিয়ে আসায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন তৈরি হয়।

বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের ১ অগস্ট কলকাতায় প্রথম কেন্দ্রীয় মিড ডে মিল রান্নাঘরের সূচনা করে অন্নমৃতা ফাউন্ডেশন।বর্তমানে কলকাতা পুরসভা এলাকার বিভিন্ন সরকারি স্কুলে ওই রান্নাঘর থেকেই খাবার পাঠানো হচ্ছে। সংগঠনের দাবি, খাবারে পুষ্টিগুণ, পরিচ্ছন্নতা, গুণমান এবং স্বাদের কারণে পড়ুয়া, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের কাছ থেকে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া মিলেছে।

সংগঠনের তরফে আরও তুলে ধরা হয়েছে যে, ২০০৪ সাল থেকেই অন্নমৃতা ফাউন্ডেশন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সরকারি স্কুলে পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণ করে আসছে।দিল্লি, মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানার মতো রাজ্যগুলিতে প্রতিদিন ১২ লক্ষেরও বেশি স্কুলপড়ুয়াকে খাবার পরিবেশন করে এই সংস্থা।ভারতে ইসকনের ৪৫০টির বেশি শাখা রয়েছে, যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে ৩৫টি শাখা এবং প্রায় ৮ হাজার কনগ্রিগেশন সেন্টার।বিশ্বব্যাপী ১৫০০টিরও বেশি কেন্দ্র নিয়ে গঠিত এই আন্তর্জাতিক সংস্থার খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষের পাতে খাবার পৌঁছায়।

একই সঙ্গে বিবৃতিতে ইসকন বেঙ্গালুরু সোসাইটিকে ঘিরে চলা দীর্ঘদিনের আইনি বিরোধের প্রসঙ্গটিও উল্লেখ করা হয়েছে।অন্নমৃতা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, বেঙ্গালুরু ভিত্তিক ওই সংগঠন কিংবা তাদের ট্রাস্টিদের কার্যকলাপের সঙ্গে মূল ও আন্তর্জাতিক ইসকনের প্রশাসনিক কাঠামোকে এক করে দেখা কোনোভাবেই সমীচীন নয়।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply