নিজস্ব সংবাদদাতা: আর মাত্র আর কয়েক ঘণ্টা পরেই ভোটগ্রহণ। ঠিক তার আগের রাতে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে এক বোমা ফাটাল সিপিআইএম নেতৃত্ব। মুর্শিদাবাদের হাইভোল্টেজ রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরাসরি শাসকদল বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যৌথভাবে বুথ দখলের ছক কষার গুরুতর অভিযোগ তুললেন সিপিআইএম বিধায়ক তথা হেভিওয়েট নেতা মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান রানা। রাতের অন্ধকারে ডিএম (DM) অফিসে গিয়ে এই সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও বুথের তালিকা জমা দিল বাম শিবির।
আগামীকাল এই গুরুত্বপূর্ণ ভোটগ্রহণকে সামনে রেখে সিপিআইএমের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, রেজিনগরে কোনোভাবেই বিজেপি জয়ী হতে পারবে না। এই পরাজয়ের আশঙ্কায় বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন মিলে আঁতাত করে রেজিনগর বিধানসভার সুনির্দিষ্ট প্রায় ৫০টি বুথ জবরদখল করার চক্রান্ত করছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান রানা। শুধু তাই নয়, দেশজুড়ে সাধারণ মানুষ ও বিরোধী শক্তির ওপর যেভাবে আক্রমণ নামিয়ে আনা হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে যেভাবে প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে উঠছে, সেই প্রসঙ্গ টেনেই তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।
নির্বাচনের ঠিক আগের রাতে সিপিআইএম প্রার্থী তথা আইনজীবী সৈয়দ আসাদ আলী এবং অন্যান্য বাম নেতৃত্ব সোজা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (DM) অফিসে হাজির হন। তাঁরা রেজিনগর বিধানসভার প্রায় ৫০টিরও বেশি স্পর্শকাতর বুথের নাম এবং সুনির্দিষ্ট নম্বর সহ তালিকা প্রস্তুত করে প্রশাসনের হাতে জমা দেন। তাঁদের মূল আশঙ্কা, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং একাংশ পুলিশকে ব্যবহার করে এই নির্দিষ্ট বুথগুলিতে সাধারণ ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়া হবে এবং বহিরাগতদের দিয়ে বুথগুলি কব্জা করার চেষ্টা চলছে।
প্রশাসনের ভূমিকা ও চরম অব্যবস্থা নিয়ে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে বাম শিবির। জানা গেছে, ভোটের ঠিক চার দিন আগে অর্থাৎ গত ৪ তারিখে বুথ এজেন্টদের নাম জমা দেওয়ার যে অফিশিয়াল নোটিশ দেওয়ার কথা ছিল, তা অত্যন্ত রহস্যজনকভাবে ১ তারিখেই তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেই নোটিশ প্রার্থীর হাতে এসে পৌঁছায় ৪ তারিখ দুপুর ১টা থেকে দেড়টা নাগাদ। এর ফলে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার মধ্যে ২৫ জন বুথ এজেন্টের সমস্ত প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট এবং নাম তালিকাভুক্ত করে জমা দেওয়া একপ্রকার অসম্ভব করে তোলা হয়। বিরোধী দলকে কোণঠাসা করতেই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
ভোটের ঠিক প্রাক্কালে রাতের বেলা এই ধরনের নজিরবিহীন অভিযোগ ও ৫০টি বুথের তালিকা জমা দেওয়ার ঘটনায় চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বিরোধী প্রার্থীর এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও আশঙ্কার পর নির্বাচন কমিশন ও জেলা প্রশাসন শেষ মুহূর্তে রেজিনগরের বুথগুলির নিরাপত্তায় কতটা কঠোর ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ নেয়।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
