হুগলির পুরশুড়ায় ৭১ বছরের বৃদ্ধ শেখ শাহ আলম খুনের নেপথ্যে টানা হুমকি ও তোলাবাজি

হুগলির পুরশুড়ায় ৭১ বছরের বৃদ্ধ শেখ শাহ আলম খুনের নেপথ্যে টানা হুমকি ও তোলাবাজি

হুগলি/কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার পুরশুড়ার কেলেপাড়া গ্রামে ৭১ বছর বয়সী বৃদ্ধ শেখ শাহ আলমকে পিটিয়ে হত্যার (Lynching) ঘটনার নেপথ্যে উঠে এলো এক দীর্ঘ ও সুপরিকল্পিত হিংসার খতিয়ান। শুধু তাৎক্ষণিক উত্তেজনার বশে নয়, বরং এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে ওই বৃদ্ধ এবং তাঁর পরিবারকে লাগাতার হুমকি, তোলাবাজি এবং শারীরিক হেনস্থার শিকার হতে হয়েছিল বলে ফ্যাক্ট-চেকিং পোর্টাল ‘অল্ট নিউজ’ (Alt News)-এর এক অনুসন্ধানী রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১৫ জুনের এই নৃশংস ঘটনার সূত্রপাত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে। কেলেপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শেখ শাহ আলমকে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সমর্থক বলে মিথ্যা তকমা দিয়ে টার্গেট করা হয়েছিল। ঘটনার দিন এক চরমপন্থী রাজনৈতিক দলের স্থানীয় একদল কর্মী-সমর্থক আচমকা শাহ আলমের বাড়ির সামনে জড়ো হয়। তারা ওই বৃদ্ধকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে টেনে বের করে আনে এবং তৃণমূলকে সমর্থনের অভিযোগ তুলে চরম বর্বরতায় মারধর শুরু করে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

অল্ট নিউজের গ্রাউন্ড রিপোর্টে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের বয়ান এবং স্থানীয় তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে যে মূল বিষয়গুলো উঠে এসেছে:

  • ধারাবাহিক হুমকি: ভোট-পরবর্তী বা রাজনৈতিক হিংসার আবহ তৈরি করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই শাহ আলমের পরিবারকে গ্রাম ছাড়ার এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
  • জোরপূর্বক তোলাবাজি: স্থানীয় একটি উগ্র রাজনৈতিক গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে শাহ আলমের ওপর আর্থিক জরিমানা বা মোটা অঙ্কের চাঁদা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাঁর ওপর ক্ষোভ আরও বাড়ে।
  • পরিকল্পিত হামলা: ঘটনার দিন কোনো আকস্মিক বচসা নয়, বরং পূর্বপরিকল্পনা মাফিক লাঠিসোঁটা ও অস্ত্র নিয়ে শাহ আলমের বাড়ি ঘেরাও করা হয়েছিল যাতে তিনি কোনোভাবেই পালাতে না পারেন।

একজন ৭১ বছরের প্রবীণ নাগরিককে এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে পিটিয়ে মারার ঘটনায় জেলাজুড়ে তীব্র উত্তেজনা এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠন এবং নাগরিক সমাজ এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

অল্ট নিউজের রিপোর্ট অনুসারে, নিহতের পরিবার ইতিমধ্যেই স্থানীয় থানায় নির্দিষ্ট অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দায়ের করেছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া পদক্ষেপ না নেওয়া হলে এলাকায় সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক সম্প্রীতি বিঘ্নিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply