জাভা|১ ফেব্রুয়ারি: ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশের বান্দুং বারাত (ওয়েস্ট বান্দুং) রিজেন্সির সিসারুয়া উপজেলার পাসির লাঙ্গু গ্রামে গত ২৪ জানুয়ারি ভোররাতে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পাহাড়ের ঢাল থেকে বিপুল পরিমাণ মাটি, পাথর ও গাছপালা ধসে নিচের দিকে নেমে আসে, যা গ্রামের বেশ কয়েকটি বসতি সম্পূর্ণভাবে চাপা দিয়ে দেয়। এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়াও ১০ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন এবং উদ্ধারকাজ চলমান অবস্থায় রয়েছে।দুর্ঘটনার পর থেকে নবম দিনেও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা বাসারনাস (Basarnas)-এর নেতৃত্বে মোট ৩,৭১৩ জন উদ্ধারকর্মী, ট্র্যাকার কুকুর, এক্সকাভেটর, বুলডোজারসহ ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করছেন। খাড়া পাহাড়ি এলাকা, অস্থির মাটি ও বারবার বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখনও পর্যন্ত ৭৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। দুর্ঘটনায় প্রায় ৫০টিরও বেশি বাড়িঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং প্রায় ৬৫০ জন মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।
ইন্দোনেশিয়ার ভূ-প্রকৃতি অত্যন্ত ভূমিধস প্রবণ। দেশটিতে আগ্নেয়গিরির প্রভাব, পাহাড়ি অঞ্চল এবং মৌসুমী বর্ষার সময় প্রতি বছরই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। এর আগে গত বছরের শেষের দিকে সুমাত্রা দ্বীপে ঘূর্ণিঝড়-সংক্রান্ত বন্যা ও ভূমিধসে ১,২০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। পাসির লাঙ্গুর এই ঘটনা দেশটির প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও জনগণের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে আরও একবার সামনে এনে দিয়েছে।স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধারকাজ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলির জন্য খাদ্য, পানীয় জল, ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও স্থানীয় বাসিন্দারাও এই ত্রাণ কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।

