মমতা ব্যানার্জি চিঠি লিখল মুখ্য নির্বাচন কমিশনকে

মমতা ব্যানার্জি চিঠি লিখল মুখ্য নির্বাচন কমিশনকে

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচক তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র বিতর্কের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে একাধিক চিঠি লিখে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। এই প্রক্রিয়াকে তিনি “অপরিকল্পিত, স্বেচ্ছাচারী এবং অ্যাডহক” বলে বর্ণনা করেছেন, যা বড় আকারে যোগ্য ভোটারদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেছেন।সাম্প্রতিকতম চিঠিগুলির মধ্যে একটিতে (জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রথম সপ্তাহে লেখা) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন যে, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এর সময় প্রক্রিয়াগত লঙ্ঘন, প্রশাসনিক ত্রুটি এবং অস্বচ্ছতা চরম আকার ধারণ করেছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ভোটারদের শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে কিন্তু কোনও নির্দিষ্ট কারণ জানানো হচ্ছে না, যা অযথা উদ্বেগ ও হয়রানির সৃষ্টি করছে। গুরুতর অভিযোগের মধ্যে রয়েছে— সার্ভার ব্যর্থতা, ডেটা মিল না হওয়া, হোয়াটসঅ্যাপ ও এসএমএস-এর মাধ্যমে অফিসিয়াল নির্দেশ জারি, এবং পরস্পরবিরোধী নির্দেশনা।

তিনি আরও বলেছেন যে, এই প্রক্রিয়া চালিয়ে গেলে ব্যাপক সংখ্যক যোগ্য ভোটারের নাম কেটে ফেলা হবে, যা গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিকে আঘাত করবে। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন যে, ত্রুটিগুলি অবিলম্বে সংশোধন না করলে এই অপরিকল্পিত প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে।একটি বিশেষ চিঠিতে (জানুয়ারি ২০২৬-এর মাঝামাঝি) তিনি অভিযোগ করেছেন যে, নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো প্রায় ৮,১০০ জন মাইক্রো-অবজার্ভার নিয়োগ করেছে, যা অন্য কোনও রাজ্যে হয়নি। এঁদের প্রশিক্ষণহীন বলে অভিহিত করে মমতা দাবি করেছেন যে, এঁরা ডেটা ম্যানিপুলেশন করে যোগ্য ভোটারদের বাদ দিচ্ছেন, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ফেডারেলিজম এবং মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।

তিনি এটিকে “ব্যাকডোর মেকানিজম” বলে অভিহিত করেছেন যাতে বড় সংখ্যক ভোটারকে বঞ্চিত করা যায়।এসআইআর শুরু হওয়ার পর থেকে (নভেম্বর ২০২৫) মুখ্যমন্ত্রী একাধিক চিঠি লিখেছেন— নভেম্বর ২০, ডিসেম্বর ২, জানুয়ারি ৩ প্রভৃতি তারিখে। প্রথম চিঠিগুলিতে তিনি বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) অতিরিক্ত চাপ, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং মৃত্যুর ঘটনা (প্রায় ৭৭টি মৃত্যু, আত্মহত্যার চেষ্টা ও হাসপাতালে ভর্তির ঘটনা) তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, এই প্রক্রিয়া মানবিক নয় এবং এআই-চালিত ত্রুটি, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ইত্যাদির কারণে যোগ্য ভোটারদের নাম কাটা পড়ছে।এই ঘটনাপ্রবাহে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সংঘাত তীব্র হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার দাবি করেছেন যে, সারা দেশে একই নিয়ম প্রয়োগ না করে শুধু পশ্চিমবঙ্গে ভিন্ন আচরণ করা হচ্ছে, যা সাংবিধানিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। তিনি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য অবিলম্বে সংশোধন বা প্রক্রিয়া বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply