পূর্ব গাজা পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করে দীর্ঘমেয়াদি দখল ও সংযুক্তিকরণের ভিত্তি গড়ছে ইসরায়েল : The New Humanitarian

পূর্ব গাজা পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করে দীর্ঘমেয়াদি দখল ও সংযুক্তিকরণের ভিত্তি গড়ছে ইসরায়েল : The New Humanitarian

পূর্ব গাজার বিস্তীর্ণ এলাকায় ফিলিস্তিনি জনপদ, কৃষিজমি এবং বেসামরিক অবকাঠামো পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করে ভবিষ্যতে ওই অঞ্চল দীর্ঘমেয়াদে দখল এবং সম্ভাব্য সংযুক্তিকরণের (Annexation) ভিত্তি তৈরি করছে ইসরায়েল—এমনই দাবি উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম The New Humanitarian-এর প্রকাশিত একটি দীর্ঘমেয়াদি তদন্তে। গত ১ জুলাই ২০২৬ প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে কয়েক মাস ধরে সংগৃহীত স্যাটেলাইট চিত্র, আইনি বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এই অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও পূর্ব গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তদন্তে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির আগে যেখানে গাজার প্রায় ৫৪ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৬৫ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের পাশাপাশি ওই এলাকাগুলোর অবশিষ্ট ভবন, অবকাঠামো এবং কৃষিজমিও ধারাবাহিকভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে।

The New Humanitarian-এর তদন্তে বলা হয়েছে, বহু শহর ও গ্রাম প্রায় সম্পূর্ণভাবে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোথাও বুলডোজার দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে, আবার কোথাও বিশাল এলাকাজুড়ে কৃষিজমিতে আগুন লাগানোর অভিযোগও উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে আগে বসতবাড়ি, স্কুল, হাসপাতাল, কবরস্থান এবং কৃষিজমি ছিল, সেই জায়গাগুলোতে বর্তমানে সামরিক ঘাঁটি ও সামরিক যোগাযোগের জন্য নতুন সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে।

প্রায় ছয় মাস ধরে স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে তদন্তটি পরিচালনা করা হয়। এতে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস অঞ্চলের খুজা (Khuza’a) শহরের বিশেষ উল্লেখ রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরের আগে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ মানুষের বসবাস ছিল এই শহরে। ২০২৫ সালের মে মাসে এলাকাটি প্রায় সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ২০২৬ সালে পুনরায় বুলডোজার এনে ধ্বংসস্তূপের ওপর দিয়ে নতুন করিডর ও সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।

একইভাবে বানি সুহেইলা (Bani Suheila) শহরের অবস্থাও তুলে ধরা হয়েছে তদন্তে। একসময় যেখানে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস ছিল, বর্তমানে সেখানে মাত্র প্রায় ৮০টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ভবন দাঁড়িয়ে আছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পাশের আবাসান আল-জাদিদা (Abasan al-Jadida) এলাকায়, যেখানে আগে প্রায় ১১ হাজার মানুষ বাস করতেন, সেখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়া আর কোনো ভবন অক্ষত নেই বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া তদন্তে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মে মাসের শুরু থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রায় ১৬ বর্গকিলোমিটার কৃষিজমিতে আগুন দিয়েছে। এসব জমির অধিকাংশই ছিল কৃষিকাজের জন্য ব্যবহৃত উর্বর ভূমি, যা স্থানীয় মানুষের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম প্রধান উৎস ছিল।

প্রতিবেদনটি এই ধ্বংসযজ্ঞকে ইসরায়েলি রাজনৈতিক নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গেও যুক্ত করেছে। তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা দখলে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশিত তথ্য উদ্ধৃত করা হয়েছে। একইসঙ্গে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ইসরায়েলি সেনারা অনির্দিষ্টকাল সেখানে অবস্থান করবে। এছাড়া সরকারের আরও কয়েকজন মন্ত্রী গাজায় পুনরায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের পক্ষে মত দিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তদন্তে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক সামরিক কর্মকর্তার বক্তব্যও উদ্ধৃত করা হয়েছে। ওই কর্মকর্তা, যিনি ধ্বংস অভিযানের একটি বড় অংশ তদারকি করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, বলেন, “এখন আর আবাসান নেই, বানি সুহেইলাও নেই”, কারণ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালানো কিছু ব্যক্তি ওই এলাকাগুলো থেকেই এসেছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে কোনো জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সমষ্টিগত শাস্তি (Collective Punishment) আরোপ যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

The New Humanitarian-এর সঙ্গে কথা বলা আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একাধিক যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগকে আরও জোরালো করে। তাদের কেউ কেউ মনে করেন, গাজায় সংঘটিত ঘটনাগুলো গণহত্যার (Genocide) প্রমাণ হিসেবেও আন্তর্জাতিক তদন্তে বিবেচিত হতে পারে।

ইসরায়েলের মানবাধিকারবিষয়ক আইন সংস্থা Adalah-এর এক আইনজীবী তদন্তে বলেন, এই ধ্বংসযজ্ঞ এমন জীবনযাপনের পরিবেশ সৃষ্টি করছে, যা একটি জনগোষ্ঠীর শারীরিক ধ্বংস ডেকে আনতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ভাষা জাতিসংঘের গণহত্যা সনদে ব্যবহৃত সংজ্ঞার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রের Rutgers University-এর আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আদিল হকও তদন্তে বলেন, যুদ্ধবিরতির সময় এত বড় পরিসরে অবকাঠামো ধ্বংসের ঘটনা আধুনিক যুদ্ধের ইতিহাসে অত্যন্ত অস্বাভাবিক। তাঁর ভাষায়, সাম্প্রতিক ইতিহাসে এ ধরনের আর কোনো উদাহরণ তাঁর জানা নেই।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, ধ্বংস হওয়া এলাকাগুলোর ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের জমি ও সম্পত্তির মালিকানার অধিকার কার্যত উপেক্ষা করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি ইসরায়েলি দখল অথবা যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত পুনর্গঠন পরিকল্পনা—উভয় ক্ষেত্রেই এসব মালিকানার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তে “Project Sunrise” নামে একটি প্রস্তাবিত পুনর্গঠন পরিকল্পনারও উল্লেখ রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফের প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনায় ধ্বংস হওয়া ফিলিস্তিনি কৃষিজমির ওপর নতুন আবাসন প্রকল্প নির্মাণের ধারণা রয়েছে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের ভূমি ও সম্পত্তির অধিকার আরও সংকুচিত হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আন্তর্জাতিক ত্রাণকর্মী তদন্তে দাবি করেন, গাজায় বর্তমানে যা ঘটছে তা পশ্চিম তীরে বহু বছর ধরে অনুসরণ করা একটি কৌশলেরই ধারাবাহিকতা। তাদের একজনের ভাষায়, “এই কার্যক্রমে সাময়িকতার কোনো ভাষা নেই; বরং এটি স্থায়ী দখলের ভাষা বলেই মনে হচ্ছে।”

The New Humanitarian-এর এই তদন্তটি সাংবাদিক রাইলি স্পার্কস এবং ঘাদা আবদুলফাত্তাহ যৌথভাবে প্রস্তুত করেছেন। প্রতিবেদনে স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি কৃষকদের সাক্ষ্য এবং আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে উল্লেখ্য, তদন্তে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে এই প্রতিবেদনে ইসরায়েলি সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি।

পূর্ব গাজার বিস্তীর্ণ এলাকায় ফিলিস্তিনি জনপদ, কৃষিজমি এবং বেসামরিক অবকাঠামো পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করে ভবিষ্যতে ওই অঞ্চল দীর্ঘমেয়াদে দখল এবং সম্ভাব্য সংযুক্তিকরণের (Annexation) ভিত্তি তৈরি করছে ইসরায়েল—এমনই দাবি উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম The New Humanitarian-এর প্রকাশিত একটি দীর্ঘমেয়াদি তদন্তে। গত ১ জুলাই ২০২৬ প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে কয়েক মাস ধরে সংগৃহীত স্যাটেলাইট চিত্র, আইনি বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এই অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও পূর্ব গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তদন্তে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির আগে যেখানে গাজার প্রায় ৫৪ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৬৫ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের পাশাপাশি ওই এলাকাগুলোর অবশিষ্ট ভবন, অবকাঠামো এবং কৃষিজমিও ধারাবাহিকভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে।

The New Humanitarian-এর তদন্তে বলা হয়েছে, বহু শহর ও গ্রাম প্রায় সম্পূর্ণভাবে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোথাও বুলডোজার দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে, আবার কোথাও বিশাল এলাকাজুড়ে কৃষিজমিতে আগুন লাগানোর অভিযোগও উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে আগে বসতবাড়ি, স্কুল, হাসপাতাল, কবরস্থান এবং কৃষিজমি ছিল, সেই জায়গাগুলোতে বর্তমানে সামরিক ঘাঁটি ও সামরিক যোগাযোগের জন্য নতুন সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে।

প্রায় ছয় মাস ধরে স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে তদন্তটি পরিচালনা করা হয়। এতে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস অঞ্চলের খুজা (Khuza’a) শহরের বিশেষ উল্লেখ রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরের আগে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ মানুষের বসবাস ছিল এই শহরে। ২০২৫ সালের মে মাসে এলাকাটি প্রায় সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ২০২৬ সালে পুনরায় বুলডোজার এনে ধ্বংসস্তূপের ওপর দিয়ে নতুন করিডর ও সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।

একইভাবে বানি সুহেইলা (Bani Suheila) শহরের অবস্থাও তুলে ধরা হয়েছে তদন্তে। একসময় যেখানে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস ছিল, বর্তমানে সেখানে মাত্র প্রায় ৮০টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ভবন দাঁড়িয়ে আছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পাশের আবাসান আল-জাদিদা (Abasan al-Jadida) এলাকায়, যেখানে আগে প্রায় ১১ হাজার মানুষ বাস করতেন, সেখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়া আর কোনো ভবন অক্ষত নেই বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া তদন্তে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মে মাসের শুরু থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রায় ১৬ বর্গকিলোমিটার কৃষিজমিতে আগুন দিয়েছে। এসব জমির অধিকাংশই ছিল কৃষিকাজের জন্য ব্যবহৃত উর্বর ভূমি, যা স্থানীয় মানুষের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম প্রধান উৎস ছিল।

প্রতিবেদনটি এই ধ্বংসযজ্ঞকে ইসরায়েলি রাজনৈতিক নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গেও যুক্ত করেছে। তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা দখলে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশিত তথ্য উদ্ধৃত করা হয়েছে। একইসঙ্গে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ইসরায়েলি সেনারা অনির্দিষ্টকাল সেখানে অবস্থান করবে। এছাড়া সরকারের আরও কয়েকজন মন্ত্রী গাজায় পুনরায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের পক্ষে মত দিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তদন্তে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক সামরিক কর্মকর্তার বক্তব্যও উদ্ধৃত করা হয়েছে। ওই কর্মকর্তা, যিনি ধ্বংস অভিযানের একটি বড় অংশ তদারকি করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, বলেন, “এখন আর আবাসান নেই, বানি সুহেইলাও নেই”, কারণ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালানো কিছু ব্যক্তি ওই এলাকাগুলো থেকেই এসেছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে কোনো জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সমষ্টিগত শাস্তি (Collective Punishment) আরোপ যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

The New Humanitarian-এর সঙ্গে কথা বলা আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একাধিক যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগকে আরও জোরালো করে। তাদের কেউ কেউ মনে করেন, গাজায় সংঘটিত ঘটনাগুলো গণহত্যার (Genocide) প্রমাণ হিসেবেও আন্তর্জাতিক তদন্তে বিবেচিত হতে পারে।

ইসরায়েলের মানবাধিকারবিষয়ক আইন সংস্থা Adalah-এর এক আইনজীবী তদন্তে বলেন, এই ধ্বংসযজ্ঞ এমন জীবনযাপনের পরিবেশ সৃষ্টি করছে, যা একটি জনগোষ্ঠীর শারীরিক ধ্বংস ডেকে আনতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ভাষা জাতিসংঘের গণহত্যা সনদে ব্যবহৃত সংজ্ঞার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রের Rutgers University-এর আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আদিল হকও তদন্তে বলেন, যুদ্ধবিরতির সময় এত বড় পরিসরে অবকাঠামো ধ্বংসের ঘটনা আধুনিক যুদ্ধের ইতিহাসে অত্যন্ত অস্বাভাবিক। তাঁর ভাষায়, সাম্প্রতিক ইতিহাসে এ ধরনের আর কোনো উদাহরণ তাঁর জানা নেই।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, ধ্বংস হওয়া এলাকাগুলোর ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের জমি ও সম্পত্তির মালিকানার অধিকার কার্যত উপেক্ষা করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি ইসরায়েলি দখল অথবা যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত পুনর্গঠন পরিকল্পনা—উভয় ক্ষেত্রেই এসব মালিকানার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তে “Project Sunrise” নামে একটি প্রস্তাবিত পুনর্গঠন পরিকল্পনারও উল্লেখ রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফের প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনায় ধ্বংস হওয়া ফিলিস্তিনি কৃষিজমির ওপর নতুন আবাসন প্রকল্প নির্মাণের ধারণা রয়েছে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের ভূমি ও সম্পত্তির অধিকার আরও সংকুচিত হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আন্তর্জাতিক ত্রাণকর্মী তদন্তে দাবি করেন, গাজায় বর্তমানে যা ঘটছে তা পশ্চিম তীরে বহু বছর ধরে অনুসরণ করা একটি কৌশলেরই ধারাবাহিকতা। তাদের একজনের ভাষায়, “এই কার্যক্রমে সাময়িকতার কোনো ভাষা নেই; বরং এটি স্থায়ী দখলের ভাষা বলেই মনে হচ্ছে।”

The New Humanitarian-এর এই তদন্তটি সাংবাদিক রাইলি স্পার্কস এবং ঘাদা আবদুলফাত্তাহ যৌথভাবে প্রস্তুত করেছেন। প্রতিবেদনে স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি কৃষকদের সাক্ষ্য এবং আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে উল্লেখ্য, তদন্তে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে এই প্রতিবেদনে ইসরায়েলি সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি।

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply