কলকাতা, ১১ সেপ্টেম্বর:
দুর্গাপূজায় আমিষ আহার বর্জনের আর্জি জানানো বাগেশ্বর ধামের প্রধান ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর ছবি পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানানোর অভিযোগে দক্ষিণ কলকাতার এক কংগ্রেস নেতাকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ। ধৃত নেতার নাম অতনু দাস। তিনি দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভায় দেওয়া কড়া বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
সম্প্রতি হাওড়ার লিলুয়ায় আয়োজিত ধর্মীয় সমাবেশ থেকে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী দুর্গাপূজার দিনগুলিতে মাছ-মাংস না খাওয়ার এবং মণ্ডপ সংলগ্ন চত্বরে আমিষ খাবার বিক্রি বন্ধ রাখার নিদান দিয়েছিলেন। তাঁর এই মন্তব্যের জেরে রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। বাঙালির চিরাচরিত ঐতিহ্য ও খাদ্যাভ্যাসে আঘাতের অভিযোগ তুলে গত ৮ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর থানার বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন কংগ্রেস কর্মীরা। সেই সময় ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি তাঁর ছবি জুতোপেটা করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সেই বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন অতনু দাস।
বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভায় বক্তব্য রাখার সময় বিষয়টি সরাসরি উত্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানান যে একজন সাধু নিজের ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করেছেন মাত্র, কারও ওপর তা জোর করে চাপিয়ে দেননি। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নিজের মত প্রকাশের কারণে কারও ছবি পুড়িয়ে অপমান বরদাস্ত করা হবে না বলে বার্তা দেন তিনি। অধিবেশন থেকেই কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ভবানীপুর থানার সামনে যাঁরা ছবি পুড়িয়েছেন তাঁদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর সেই কঠোর নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সক্রিয় হয়ে ওঠে কলকাতা পুলিশ। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে দক্ষিণ কলকাতায় অতনু দাসের বাসভবনে তল্লাশি অভিযান চালায় পুলিশের একটি বিশেষ দল। বাড়ি থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানা এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার তাঁকে আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে।
এই গ্রেফতারির ঘটনায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এই পদক্ষেপকে স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতা বলে তোপ দেগেছেন। তাঁর বক্তব্য, ভিনরাজ্য থেকে এসে যিনি বাংলার সংস্কৃতি ও ধর্মীয় আচারকে অপমান করলেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে প্রতিবাদকারী রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যেভাবে বিরোধী দলের নেতাকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হলো, তা সম্পূর্ণ আইনের পরিপন্থী বলে অভিযোগ করেন তিনি। পুলিশের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী তরজা নতুন করে তুঙ্গে উঠেছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
