জলপাইগুড়ি, ১১ সেপ্টেম্বর:
ঐতিহ্যবাহী জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিগ্রহের ঘটনায় কড়া অবস্থান নিল রাজ্য প্রশাসন। অভিযুক্ত ছাত্রদের স্কুল থেকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট বা টিসি ধরিয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। শুক্রবার জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক শেষে তিনি এই কড়া পদক্ষেপের কথা সংবাদমাধ্যমকে জানান। শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা রক্ষা ও শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
শুক্রবার জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই বিশেষ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক অদিতি চৌধুরী, জলপাইগুড়ি সদর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারী, জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক ও প্রাথমিক), ডিইও, স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক, বিশিষ্ট নাগরিক এবং প্রাক্তনী সংসদের প্রতিনিধিরা। এছাড়াও সার্বিক পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করতে জলপাইগুড়ি শহরের আরও ২২টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, টিআইসি এবং স্থানীয় পলিটেকনিক কলেজের অধ্যক্ষকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
দীর্ঘ বৈঠকের পর শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন বলেন, শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষক নিগ্রহের যে ঘটনা ঘটেছে তার পরিধি ও অভিঘাত অত্যন্ত গভীর এবং উদ্বেগজনক। ছাত্রসমাজ ও শিক্ষাঙ্গনে অনুশাসন ফিরিয়ে আনতে একটি স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল। সেই কারণে বৈঠকে উপস্থিত সকলের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, অভিযুক্ত ছাত্রদের এই ঐতিহ্যবাহী স্কুল থেকে টিসি দেওয়া হবে। তারা আর কোনোভাবেই জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে না।
তবে অভিযুক্ত ছাত্রদের ভবিষ্যৎ এবং মানবিকতার দিক বিবেচনা করে তাদের শিক্ষা পুরোপুরি বন্ধ করা হচ্ছে না বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, অন্য কোনো সাধারণ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পরীক্ষায় বসার ক্ষেত্রে তাদের সামনে কোনো বাধা থাকবে না, যাতে তাদের শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না হয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও সামগ্রিক তথ্য খতিয়ে দেখে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত ছাত্রদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা আধিকারিকদের দু’দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান চলাকালীন একদল ছাত্রের হাতে শারীরিক নিগ্রহের শিকার হয়ে রক্তাক্ত হন স্কুলের প্রধান শিক্ষক ধর্মচাঁদ বারুই। মারধরের জেরে তাঁর মাথা ফেটে যায় এবং তাঁকে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। শতবর্ষ প্রাচীন এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠে প্রকাশ্য দিবালোকে প্রধান শিক্ষকের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় গোটা রাজ্যজুড়ে নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। অবশেষে শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে প্রশাসনের নেওয়া এই কড়া পদক্ষেপে ঘটনার জটিলতা অনেকটাই কাটল বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

