বাঙালিদের আঘাত করা উদ্দেশ্য ছিল না, দুর্গাপূজায় আমিষ মন্তব্যে সাফাই ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর

বাঙালিদের আঘাত করা উদ্দেশ্য ছিল না, দুর্গাপূজায় আমিষ মন্তব্যে সাফাই ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর

কলকাতা, ১১ সেপ্টেম্বর:

দুর্গাপূজায় আমিষ খাবার খাওয়া বর্জন করার আবেদন জানিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়ে অবশেষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বর ধামের প্রধান ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী। বাঙালি জাতির অনুভূতি বা খাদ্যাভ্যাসে আঘাত হানা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না বলে সাফাই দিয়েছেন তিনি। সনাতন সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক ভাবাবেগকে সম্মান জানিয়েই তিনি সেই কথা বলেছিলেন বলে দাবি করেছেন বাগেশ্বর বাবা।

সম্প্রতি হাওড়ার লিলুয়ায় এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এসে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী দুর্গাপূজায় আমিষ আহার গ্রহণ না করার এবং মণ্ডপ সংলগ্ন চত্বরে আমিষ খাবার বিক্রি বন্ধ রাখার আর্জি জানিয়েছিলেন। বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসবে এই ধরনের মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে চরম প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তৃণমূল কংগ্রেস এবং প্রদেশ কংগ্রেস উভয়েই এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ময়দানে নামে। কলকাতার ভবানীপুর থানায় ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পাশাপাশি তাঁর ছবিতে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। বিতর্কের আঁচ পৌঁছায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা চত্বরেও।

বিতর্ক ক্রমশ বাড়তে থাকায় এবার নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী। তিনি জানান, সনাতন ধর্মের আচার-বিচার এবং ধর্মীয় পবিত্রতার প্রসঙ্গ তুলে ধরেই তিনি ভক্তদের প্রতি সাধারণ বার্তা দিয়েছিলেন। কারও ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাস বা কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যকে খাটো করা তাঁর অভিপ্রায় ছিল না। বাঙালি সমাজকে আঘাত দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাঁর ছিল না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। দুর্গাপূজা সমগ্র সনাতনীদের কাছে পরম শ্রদ্ধার উৎসব এবং তিনি কেবল আধ্যাত্মিক শুচিতার দিকটিই তুলে ধরেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, দুর্গাপূজার দিনগুলিতে বাঙালির আমিষ আহার একটি দীর্ঘকালীন প্রথা ও সাংস্কৃতিক জীবনের অঙ্গ। ফলে ভিনরাজ্যের একজন ধর্মীয় বক্তা এসে সেই রীতি পরিবর্তনের বার্তা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের একাংশ এই মন্তব্যকে সরাসরি বাঙালির সংস্কৃতিতে হস্তক্ষেপ বলে আক্রমণ শানান। অন্য দিকে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর পক্ষ সমর্থন করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছিলেন, ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী তাঁর মতামত জানিয়েছেন মাত্র, কারও ওপর জোর করে তা চাপিয়ে দেননি। সেই সঙ্গে ভবানীপুরে তাঁর ছবি পোড়ানোর ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারির নির্দেশও দেন তিনি। শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই বাদানুবাদের মধ্যেই এবার সরাসরি বিতর্কিত মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বিষয়টিতে ইতি টানার বার্তা দিলেন স্বয়ং ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply