শিবপুরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (IIEST)-কে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা আইআইটি (IIT)-এর মর্যাদায় ভূষিত করার জন্য কেন্দ্রের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার

শিবপুরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (IIEST)-কে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা আইআইটি (IIT)-এর মর্যাদায় ভূষিত করার জন্য কেন্দ্রের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার

কলকাতা, ২৩ আগস্ট :

দেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী প্রকৌশল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিবপুরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (IIEST)-কে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা আইআইটি (IIT)-এর মর্যাদায় ভূষিত করার জন্য কেন্দ্রের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।সম্প্রতি শিক্ষা সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের কেন্দ্র-রাজ্য বৈঠকের পর এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও নতুন উদ্যোগ

শিবপুরের এই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানটি অতীতে বিই কলেজ (BE College) এবং পরবর্তীকালে বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটি বা বেসু (BESU) নামে পরিচিত ছিল।অতীতে এক ডাইনোসরসম পর্যায়ে এই প্রতিষ্ঠানটিকে আইআইটি-তে রূপান্তরিত করার প্রাথমিক প্রস্তাব বিবেচনায় এলেও তৎকালীন রাজ্য সরকারের সম্মতির অভাবে তা বাস্তবায়িত হতে পারেনি।তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক উন্নতির কথা মাথায় রেখে প্রস্তাব প্রেরণের জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার জানান, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি হাতে পাওয়ার পর কেন্দ্র সরকার সম্পূর্ণ ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিষয়টি বিবেচনা করবে।এই রূপায়ন সম্পন্ন হলে রাজ্যের শিক্ষা মানচিত্র এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শিক্ষামহলের প্রতিক্রিয়া ও পরিকাঠামো

রাজ্যের উচ্চশিক্ষা প্রশাসনের মতে, শিবপুর আইআইইএসটি-র বর্তমান ক্যাম্পাস, বিশাল পরিকাঠামো এবং এর গৌরবময় ঐতিহ্য বহু নবীন আইআইটি-র সঙ্গেই তুলনীয়।রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রকের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, এই প্রতিষ্ঠানটি আইআইটি-র তকমা পেলে তা শুধুমাত্র কলকাতার শিক্ষাগত মুকুটে নতুন পালকই যোগ করবে না, বরং দেশবিদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে।

প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর ভিএমএসআর মূর্তি এই সম্ভাব্য রূপান্তরকে স্বাগত জানিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, এই আপগ্রেডেশন প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক অগ্রগতিকে এক লম্ফে বহু দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।কারণ হিসেবে তিনি প্রতিষ্ঠানটির শক্তিশালী অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক, পর্যাপ্ত মানবসম্পদ এবং ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারের কথা তুলে ধরেছেন।অন্যদিকে, ইনস্টিটিউটের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য এই পদক্ষেপে অত্যন্ত আশাবাদী এবং ইতিবাচক উন্নয়নের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে মত প্রকাশ করেছেন।

আইআইএম ক্যালকাটা ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গ

শিক্ষা বিষয়ক এই উচ্চপর্যায় বৈঠকে শুধুমাত্র শিবপুর নয়, বরং বাংলার অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে।কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, কলকাতার ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট (IIM) ক্যালকাটার প্রায় ৫০০ কোটি টাকার একটি সুবৃহৎ সম্প্রসারণ প্রকল্প এতদিন কলকাতা পৌরসংস্থার (KMC) নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট বা এনওসি (NOC)-র জটিলতার কারণে আটকে ছিল।তবে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও উদ্যোগ গ্রহণের ফলে সেই বাধা কাটতে চলেছে।

পাশাপাশি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (JU) জন্য ‘ইনস্টিটিউট অফ এমিনেন্স’ (IoE) ট্যাগ এবং যৌথ তহবিল সংক্রান্ত প্রস্তাবও কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মহল এ বিষয়েও যথেষ্ট আশাবাদী প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।সবমিলিয়ে, উচ্চশিক্ষার বেদিমূলে বাংলার পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করতে এই কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চলেছে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply