মালদা, ২৩ আগস্ট:
ট্রান্সফার সার্টিফিকেট দেওয়া ও বিদ্যালয়ের আর্থিক অনিয়মকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষাকর্মীকে বেধড়ক মারধর ও হেনস্থার অভিযোগ উঠল মালদার এক বিদ্যালয়ে। শনিবার মালদার ইংরেজবাজার ব্লকের মিল্কি হাই স্কুলে ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হন বিদ্যালয়ের করণিক অজয় দাস। ঘটনার জেরে বিদ্যালয় চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।
আক্রান্ত শিক্ষাকর্মী অজয় দাসের অভিযোগ, তিনি এদিন সকালে নিজের কাজ করছিলেন। সেই সময় এক ছাত্রী ট্রান্সফার সার্টিফিকেট নিতে এলে প্রধান শিক্ষক সুবীর সাহা তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হন। এরপর কোনো কারণ ছাড়াই প্রধান শিক্ষকের মদতে স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামী তথা যুব তৃণমূল নেতা মনতোষ সিংহ এবং তাঁর সঙ্গী প্রদীপ দাস স্কুলে এসে অজয়বাবুর ওপর চড়াও হন এবং শারীরিক নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ। এমনকি তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি মারধর করা হয়।
অজয়বাবু আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের প্রায় দুই কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি ও তহবিল তছরূপের বিষয়ে তিনি আগেই জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক ও রাজ্য স্তরে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। প্রধান শিক্ষক এবং ওই স্থানীয় নেতার যোগসাজশে স্কুলের তহবিল তছরূপ করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। সেই পুরোনো অভিযোগ তুলে নেওয়া এবং দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার লক্ষ্যেই এদিন পরিকল্পিতভাবে তাঁর ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত যুব তৃণমূল নেতা মনতোষ সিংহ। তাঁর দাবি, তিনি মেয়ের ট্রান্সফার সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য স্কুলে গিয়েছিলেন। অজয়বাবু দীর্ঘদিন ধরে টিসি আটকে রেখেছিলেন এবং বিভিন্ন অজুহাতে টাকা দাবি করছিলেন। কোনো আর্থিক অনিয়ম বা মারধরের অভিযোগ সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন। এই নিয়ে তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি হয়েছে মাত্র। একইসঙ্গে প্রধান শিক্ষক সুবীর সাহাও আর্থিক দুর্নীতির সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে মিল্কি ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত শিক্ষাকর্মী ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

