বাংলাদেশে গোমাংস খাওয়ার মন্তব্যে ট্রোলের মুখে কড়া জবাব অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর

বাংলাদেশে গোমাংস খাওয়ার মন্তব্যে ট্রোলের মুখে কড়া জবাব অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর

কলকাতা, ৯ সেপ্টেম্বর:

বাংলাদেশে গিয়ে একটি সাক্ষাৎকারে গোমাংস খাওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ট্রোলের মুখে পড়েছেন টলিউডের প্রবীণ ও জনপ্রিয় অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। তবে সাইবার দুনিয়ার এই কটাক্ষ ও সমালোচনার মুখে পড়ে চুপ থাকেননি তিনি। উল্টে অত্যন্ত শান্ত ও বলিষ্ঠ ভাষায় ট্রোলাদের কড়া জবাব দিয়েছেন এই বর্ষীয়ান শিল্পী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, খাওয়াদাওয়া বা খাদ্যাভ্যাস সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত একটি বিষয় এবং এই নিয়ে কোনো অবস্থাতেই রাজনীতি বা অহেতুক বিতর্ক তৈরি করা একেবারেই কাম্য নয়।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল সম্প্রতি তাঁর বাংলাদেশ সফর চলাকালীন। সেখানে একটি অনুষ্ঠানে এবং সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে ব্যক্তিগত জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছিলেন অভিনেতা। কথার প্রসঙ্গে বিভিন্ন খাবারের স্বাদ নেওয়ার বিষয় উঠে আসে এবং তিনি স্বাভাবিকভাবেই উল্লেখ করেন যে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অনুযায়ী খাবারের অভিজ্ঞতা তিনি অর্জন করেছেন। সেই সূত্রে বাংলাদেশে গিয়েও তিনি বিশেষ কিছু পদ বা গরুর মাংসের পদের স্বাদ নেওয়ার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছিলেন।

তবে সেই সাক্ষাৎকারের ভিডিও ফুটেজ ও ক্লিপিংস নেটমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরেই এক শ্রেণির নেটিজেন তাঁর বিরুদ্ধে চরম আক্রমণাত্মক মন্তব্য করতে শুরু করেন। সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে নিয়ে শুরু হয় তীব্র কটাক্ষ ও ট্রোলিং। একজন হিন্দু ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান হয়ে তিনি কীভাবে এমন খাবার খেলেন বা তা প্রকাশ্য মাধ্যমে অকপটে জানালেন, তা নিয়ে নীতিপুলিশি শুরু করে দেয় নেটপাড়ার একাংশ। রীতিমতো কদর্য ভাষায় আক্রমণ চালানো হতে থাকে অভিনেতার ব্যক্তিত্ব ও মানসিকতার ওপর।

এই অনভিপ্রেত বিতর্ক ও আক্রমণের জবাবে মুখ খুলে অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী ট্রোলাদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি জানান, একজন মানুষের খাদ্যাভ্যাস তার একান্ত নিজস্ব স্বাধীনতা এবং রুচির ওপর নির্ভর করে। বিশ্বের নানা প্রান্তে যখন একজন ব্যক্তি যান, তখন সেখানকার স্থানীয় খাদ্যসংস্কৃতির অংশ হওয়া বা কোনো নতুন স্বাদ নেওয়া কোনো অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, কারও খাদ্যাভ্যাস দিয়ে তার মানবতা, চারিত্রিক গুণ বা ধর্মীয় পরিচয় বিচার করা কোনো সুস্থ মানসিকতার পরিচয় নয়।

টলিউডের এই বিশিষ্ট অভিনেতা ক্ষোভের সঙ্গে জানান, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে একদল মানুষ কেবল ঘৃণা ছড়ানো এবং অন্যদের ব্যক্তিগত পছন্দে নাক গলানোর হাতিয়ার বানিয়ে ফেলেছে। অহেতুক বিষয় নিয়ে জলঘোলা করা এবং কাউকে লক্ষ্যবস্তু করে ট্রোল করার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এই ধরনের অযৌক্তিক ট্রোল বা কটূক্তিকে তিনি বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেন না এবং কারোর মতামত দেখে নিজের জীবনযাপন পরিবর্তন করার কোনো প্রয়োজনও অনুভব করেন না। তিনি বরাবর নিজের সততা ও পছন্দের ওপর বিশ্বাস রেখে চলেছেন এবং ভবিষ্যতেও তাই করবেন।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply