পাহাড়ের প্রশাসনে দুর্নীতি নিয়ে সরব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী: ‘যারা লুটপাট করেছে, তাদের জেলে পাঠানো হবে, কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না’

পাহাড়ের প্রশাসনে দুর্নীতি নিয়ে সরব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী: ‘যারা লুটপাট করেছে, তাদের জেলে পাঠানো হবে, কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না’

কলকাতা ,ইনামুল ভুইয়াঃ

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার পাহাড়ের প্রশাসনে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (GTA)-এর প্রধান সচিব স্মৃতিরঞ্জন মহান্তিকে পাহাড়ি এই সংস্থার প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা করেন।

খারাপ আবহাওয়ার কারণে তাঁর হেলিকপ্টার কালিম্পংয়ে নামতে না পারায় শিলিগুড়ি থেকে ভার্চুয়ালি কালিম্পংয়ের প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজ্যে আগের তৃণমূল সরকারের আমলে GTA-তে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তার জন্য কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যারা সরকারি তহবিল লুট করেছেন, তাদের গ্রেফতার করা হবে এবং সেই টাকা উদ্ধার করা হবে। কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।”

GTA-এর মাধ্যমে ৪০০-রও বেশি শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, ‘অমৃত’ পানীয় জল প্রকল্পে বরাদ্দ অর্থ ব্যবহারে অসঙ্গতি এবং পাহাড়ের বিভিন্ন জনজাতি সম্প্রদায়ের উন্নয়নের জন্য গঠিত ১১টি বোর্ডের তহবিল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বলে জানান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শিক্ষক নিয়োগ হোক বা পানীয় জল সরবরাহের প্রকল্প—যেখানেই দুর্নীতি প্রমাণিত হবে, কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। নিশ্চিন্ত থাকুন, যারা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও জানান, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ হয়ে থাকলে অভিযুক্তদের কাছ থেকেই সেই টাকা উদ্ধার করা হবে।

পাহাড়ি জেলাগুলির উন্নয়ন তাঁর সরকারের অগ্রাধিকার বলে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পাহাড় সংক্রান্ত সমস্ত বিষয়ে কাজ করার জন্য স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামাকে তিনি “পূর্ণ স্বাধীনতা” দিয়েছেন।

এদিন কালিম্পংয়ে একটি মেডিক্যাল কলেজ তৈরির ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামীবার তাঁর পাহাড় সফরের সময় এই মেডিক্যাল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রস্তাবিত মেডিক্যাল কলেজের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক অনুমোদনের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে স্বাস্থ্যসচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি কালিম্পংয়ের মানুষের জন্য একটি বড় উপহার।”

এলাকার বাসিন্দাদের জন্য নেওয়া একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, কালিম্পংয়ে ২.১৮ লক্ষের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১.১৫ লক্ষ আয়ুষ্মান ভারত কার্ড সক্রিয় হয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতায় যারা আসেননি, তাদের মুখ্যমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কালিম্পংয়ের ১৫ হাজার মহিলা ইতিমধ্যেই অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে পেতে শুরু করেছেন। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন উপলক্ষে পরবর্তী কিস্তির টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

আগামী ছয় মাসের মধ্যে কালিম্পংয়ের জমির মালিক অথচ গৃহহীন ৮,৩২৫টি পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার মাধ্যমে বাড়ি দেওয়া হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

পাহাড়ের সমস্যার স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে কেন্দ্র একটি কমিটি গঠন করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পাহাড়ের মানুষের কাছে করা প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হবে। চা-বাগান থেকে পর্যটন—সর্বত্র উন্নয়নের কাজ চলবে।” এদিন তিনি ঘোষণা করেন, চলতি বছর চা-শ্রমিকদের ২০ শতাংশ পুজো বোনাস দেওয়া হবে এবং বন্ধ হয়ে থাকা চা-বাগানগুলি পুনরায় খোলার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

খারাপ দৃশ্যমানতার কারণে তাঁর হেলিকপ্টার কালিম্পংয়ে অবতরণ করতে না পারায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ৬ অক্টোবর তিনি আবার পাহাড়ে ফিরবেন।

তিনি বলেন, ২২ সেপ্টেম্বর কোচবিহার ও জলদাপাড়ায় ‘রাইনো ডে’ উপলক্ষে উপস্থিত থাকবেন। ২ অক্টোবর যাবেন বক্সায় এবং ৬ অক্টোবর দার্জিলিংয়ে যাবেন। ফেরার পথে কালিম্পংয়েও যাবেন বলে জানান তিনি।

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply