কলকাতা, ৯ সেপ্টেম্বর:
অগ্নিসুরক্ষা বিধিতে মারাত্মক গলদ এবং চরম গাফিলতির দায়ে তিলোত্তমার ৯১৯টি হোটেল ও গেস্ট হাউসে সাময়িক বন্ধের নোটিস জারি করল কলকাতা পুরসভা। সম্প্রতি দমকল বিভাগ, কলকাতা পুরসভা এবং কলকাতা পুলিশের যৌথ পরিদর্শনে এই উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। খতিয়ে দেখা ৯৬০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সিংহভাগ হোটেলেই ন্যূনতম অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থা না মেলায় কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পুর প্রশাসন।
গত ১৯ অগস্ট কলকাতার প্রাণকেন্দ্র নিউমার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি গেস্ট হাউসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় সাত জন বাংলাদেশি নাগরিক-সহ মোট ন’জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এর পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। শহরের সমস্ত হোটেল, লজ ও গেস্ট হাউসে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা খতিয়ে দেখতে যৌথ পরিদর্শন দল গঠন করা হয়।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরে চলা আনুমানিক ৩,৭০০টি হোটেল ও গেস্ট হাউসের মধ্যে প্রায় এক-চতুর্থাংশ অর্থাৎ ৯৬০টি প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন চালানো হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, মাত্র ৪১টি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত নিয়মকানুন ও অগ্নিসুরক্ষা বিধি মেনে চলছে। বাকি ৯১৯টি প্রতিষ্ঠানই সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল। এর জেরে প্রায় ৯৫ শতাংশ হোটেল ও গেস্ট হাউসকেই সাময়িক বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুর আধিকারিকরা জানিয়েছেন, চিহ্নিত হোটেলগুলির বিরুদ্ধে অভিযোগ গুরুতর। অনেক ক্ষেত্রেই জরুরি নির্গমন পথ রুদ্ধ রাখা হয়েছিল, কোথাও সিঁড়ি বা ছাদে ওঠার পথ আটকে তৈরি করা হয়েছিল স্থায়ী কাঠামো। এ ছাড়া আগুন নেভানোর পর্যাপ্ত সরঞ্জাম এবং স্বয়ংক্রিয় ধোঁয়া শনাক্তকরণ ব্যবস্থা প্রায় সর্বত্রই ছিল অচল বা অনুপস্থিত। এমনকি বহু হোটেলের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ও বৈধ নথিপত্রেও গরমিল পাওয়া গিয়েছে।
যে সমস্ত হোটেল ও গেস্ট হাউসে বন্ধের নোটিস ধরানো হয়েছে, তাদের অবিলম্বে অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ত্রুটি সংশোধন করে দমকল বিভাগের কাছ থেকে রিনিউয়াল অফ ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হবে। তার পরেই পুনরায় ব্যবসা চালুর লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যাবে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলিতেও ধারাবাহিকভাবে এই যৌথ পরিদর্শন ও কড়া নজরদারি জারি থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
