নাইজেরিয়ায় , ৪ সেপ্টেম্বর:
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় পাইপলাইন থেকে অবৈধভাবে তেল চুরি করতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসের প্রকোপে দমবন্ধ হয়ে অন্তত ৪৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দক্ষিণ নাইজেরিয়ার তেলসমৃদ্ধ রিভার্স প্রদেশের ওক্রিকা এলাকার ওকারি জেটিতে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। রফতানির কাজে ব্যবহৃত একটি মূল পাইপলাইন থেকে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে পেট্রোলিয়াম জাতীয় পদার্থ সংগ্রহের চেষ্টাকালে মারাত্মক বিষাক্ত ধোঁয়া চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে এই বিপর্যয় সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওক্রিকা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার দুই শতাধিক তরুণ ও যুবক কাঠের নৌকা নিয়ে মধ্যরাতে ওকারি জেটির কাছে জড়ো হয়েছিল। সেই সময় রফতানির উদ্দেশে পাইপলাইনের মাধ্যমে উচ্চ চাপে পেট্রোলিয়াম পণ্য একটি বড় জাহাজে পাঠানো হচ্ছিল। যুবকদের দলটি পাইপলাইনের অবৈধ ট্যাপিং পয়েন্টে নিজস্ব পাইপ যুক্ত করে তাদের নৌকায় তেল ভরার চেষ্টা করে। পাইপ থেকে দ্রুতগতিতে তেল বের হওয়ার সময় প্রচণ্ড ঘন ও বিষাক্ত বাষ্প আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে।
তীব্র বিষাক্ত গ্যাসের কারণে ঘটনাস্থলে উপস্থিত বহু মানুষ মুহূর্তের মধ্যে শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করেন এবং অজ্ঞান হয়ে পড়েন। অনেকেরই ঘটনাস্থলে দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়। আবার বেশ কয়েকজন অচেতন অবস্থায় সরাসরি নদীতে পড়ে তলিয়ে যান। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীর জলে এখনও পর্যন্ত একাধিক নিথর দেহ ভাসতে দেখা গিয়েছে এবং এখনও বহু যুবক নিখোঁজ রয়েছেন।
রিভার্স প্রদেশের পুলিশ বিভাগের মুখপাত্র ব্লেসিং আগাবে এই দুর্ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ঠিক কীভাবে এই ঘটনা ঘটল এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মাত্রা কতখানি, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। উদ্ধারকারী দল নদীতে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।
নাইজার ডেল্টা অঞ্চলের পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন ইউথস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাডভোকেসি সেন্টারের শীর্ষ আধিকারিক ডক্টর ফাইনফেস ডুম্নামেনে ফাইনফেস জানিয়েছেন, ইন্দোরামা এলেমে পেট্রোকেমিক্যালস এলাকা থেকে পোর্ট হারকোর্ট শোধনাগার হয়ে রফতানি জাহাজের দিকে যাওয়া পাইপলাইনে এই অবৈধ চুরির চেষ্টা চালানো হয়েছিল। পাইপলাইনের ভেতরে অত্যন্ত বেশি চাপ থাকায় বিষাক্ত রাসায়নিক ধোঁয়া খুব দ্রুত বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানে উপস্থিত যুবকদের আর পালানোর কোনো সুযোগ ছিল না।
নাইজেরিয়ার খনিজ তেলসমৃদ্ধ নাইজার ডেল্টা এলাকায় পাইপলাইন ফুটো করে বেআইনিভাবে তেল উত্তোলন ও দেশি পদ্ধতিতে তা পরিশোধনের মতো বিপজ্জনক কার্যকলাপ বহু বছর ধরেই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী প্রায়ই এই ধরনের অবৈধ তেল শোধনাগার ধ্বংস ও চোরাকারবারিদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালায়। তবে এই ধরনের বিপজ্জনক তেল চুরির পুনরাবৃত্তি যে সাধারণ মানুষের জীবনের জন্য কতটা মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে, ওক্রিকার এই মর্মান্তিক ঘটনা তা নতুন করে প্রমাণ করল।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

