কলকাতা, ৪ সেপ্টেম্বর:
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের একাংশ খালি করার কড়া নির্দেশ দিল দমকল বিভাগ। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় একাধিক গুরুতর ত্রুটি ও গাফিলতি ধরা পড়ায় ওই বহুতলের বেসমেন্ট এবং ছয় ও সাত তলা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার দমকলের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত নির্দেশ জারি করা হয়।
দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ কলকাতার ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটের ওই বহুতলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কার্যালয় রয়েছে। সম্প্রতি দমকলের আধিকারিকরা পুরো ভবনটিতে একটি বিশেষ ফায়ার সেফটি অডিট বা অগ্নিনির্বাপণ সংক্রান্ত সমীক্ষা চালান। সেই সময় দেখা যায়, তৃণমূল সাংসদের কার্যালয় হিসেবে পরিচিত ছয় এবং সাত নম্বর তলে অগ্নিনির্বাপণ সুরক্ষাবিধির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্ত মানা হয়নি।
অডিট চলাকালীন দমকল কর্মীরা লক্ষ্য করেন, ভবনের জরুরি ফায়ার অ্যালার্ম এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্রিংকলার ব্যবস্থা সঠিকভাবে কাজ করছে না। এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট তলগুলির ফায়ার লাইসেন্সও ইতিমধ্যেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছে। জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে শেষবার এই তলগুলিতে ফায়ার অডিট হয়েছিল এবং তখন তিন বছরের জন্য লাইসেন্স মঞ্জুর করা হয়েছিল। সেই লাইসেন্সের মেয়াদ ফুরিয়ে গেলেও তা পুনরায় পুনর্নবীকরণ বা রিনিউ করা হয়নি।
যেহেতু এই দুটি তল ভাড়া নেওয়া, তাই নিয়ম মেনে দমকল বিভাগের পক্ষ থেকে আগেই নোটিস পাঠানো হয়েছিল। তবে অভিযোগ উঠেছে, সেই নোটিস পাওয়ার পরেও অভিষেকের অফিসের তরফে কোনও প্রতিনিধি নির্ধারিত সময়ে হাজিরা দেননি। এর জেরেই দমকল কর্তৃপক্ষ কড়া অবস্থান নিয়ে ১১সি ফায়ার সেফটি অ্যাক্ট অনুযায়ী অবিলম্বে ছয় এবং সাত নম্বর তল খালি করার নির্দেশ দিয়েছে। দমকলের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করে লাইসেন্স রিনিউ না করা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই তলগুলি কোনওভাবেই ব্যবহার করা যাবে না।
শুধু কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত তলগুলিই নয়, ওই বহুতলের বেসমেন্ট পার্কিং এলাকাতেও ফায়ার অডিটের সময় একাধিক গাফিলতি নজরে এসেছে দমকল আধিকারিকদের। বেসমেন্ট পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে যে ধরণের বাধ্যতামূলক অগ্নি-সুরক্ষা ব্যবস্থাপনা থাকা আইনত আবশ্যক, সেখানে তা যথাযথভাবে বজায় রাখা হয়নি। এই কারণে বেসমেন্টটিও দ্রুত ফাঁকা করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
বর্তমানে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। ফলে দমকলের এই নির্দেশের পর তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায় কিংবা কার্যালয়ের অন্যান্য আধিকারিকরা কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং অফিস সত্যিই খালি করা হয় কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

