কলকাতা, ৪ সেপ্টেম্বর:
কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টেক-অফের ঠিক আগে একটি যাত্রীবাহী বিমানে ছড়াল তীব্র বোমাতঙ্ক। শুক্রবার বিকেলে কলকাতা থেকে উত্তরপ্রদেশের গোরখপুরগামী ইন্ডিগোর একটি বিমানের শৌচালয় থেকে হুমকি-চিঠি উদ্ধারকে কেন্দ্র করে দমদম বিমানবন্দর চত্বরে ব্যাপক শোরগোল ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়। উড়ানের ঠিক আগ মুহূর্তে বিমানে বোমা রাখা রয়েছে এমন চিরকুট মেলায় জরুরি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ে কলকাতা থেকে গোরখপুরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হচ্ছিল ইন্ডিগোর সংশ্লিষ্ট বিমানটি। যাত্রীরাও সকলে নিজেদের আসনে বসে পড়েছিলেন। বিমানটি রানওয়ের দিকে এগিয়ে টেক-অফ করার ঠিক পূর্বমুহূর্তে বিমানের শৌচালয়ে তল্লাশি চালানোর সময় কেবিন ক্রু বা বিমানসেবিকার নজরে আসে একটি চিরকুট। সেই কাগজে স্পষ্ট লেখা ছিল যে বিমানের ভেতরে বোমা রাখা রয়েছে।
ঘটনার আকস্মিকতায় কালবিলম্ব না করে বিষয়টি তৎক্ষণাৎ বিমানের প্রধান পাইলটকে জানান দায়িত্বপ্রাপ্ত কেবিন ক্রু। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পাইলট কালক্ষেপ না করে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ও এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষকে জরুরি বার্তা পাঠান। বিমানটি উড়ানের বদলে তড়িঘড়ি রানওয়ে থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় একটি সংরক্ষিত আইসোলেশন বে-তে।
যাত্রীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিমান থেকে সমস্ত যাত্রীকে নিরাপদ স্থানে নামিয়ে আনা হয়। একই সঙ্গে নামিয়ে নেওয়া হয় তাঁদের সঙ্গে থাকা সমস্ত কেবিন লাগেজ ও অন্যান্য মালপত্র। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড, সিআইএসএফ জওয়ান এবং বিমানবন্দর থানার পুলিশ।
নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানেরা স্নিফার ডগ বা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর নিয়ে পুরো বিমানের ভেতরে প্রবেশ করেন। বিমানের আসন, ওভারহেড বিন, কার্গো হোল্ড এবং শৌচালয় সহ প্রতিটি কোণায় তন্নতন্ন করে চিরুনি তল্লাশি শুরু করা হয়। বিমানে থাকা যাত্রীদের মালপত্রও আধুনিক স্ক্যানার মেশিনের মাধ্যমে দ্বিতীয় দফায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়।
বিমানটিতে ঠিক কীভাবে এই ধরনের চিরকুট বা হুমকি লেখা কাগজ এল, তা জানতে ইতিমধ্যেই পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছেন পুলিশ ও গোয়েন্দা আধিকারিকরা। বিমানে ওঠার আগে যাত্রীদের নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় কোনও বড়সড় ফাঁকফোকর ছিল কি না, তাও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যেই এক যাত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
হঠাৎ এই বোমাতঙ্কের জেরে নির্দিষ্ট সময়ে বিমানটি গোরখপুরের উদ্দেশে উড়ান ভরতে পারেনি। চরম ভোগান্তি এবং উৎকণ্ঠার মধ্যে পড়েন বিমানের সাধারণ যাত্রীরা। পুরো বিমানে তল্লাশি অভিযান শেষ করে সবুজ সংকেত না মেলা পর্যন্ত বিমানটি কখন পুনরায় গোরখপুরের উদ্দেশে রওনা দেবে, সে বিষয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্দিষ্টভাবে কোনও নিশ্চয়তা দেওয়া যায়নি।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
