তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে অন্তর্বর্তী পুলিশি নিরাপত্তার নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে অন্তর্বর্তী পুলিশি নিরাপত্তার নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

কলকাতা, ১ সেপ্টেম্বর:

নিজের লোকসভা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্রের নিরাপত্তার স্বার্থে অন্তর্বর্তীকালীন ভিত্তিতে দুজন পুলিশকর্মী মোতায়েন করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি যাতে নির্বিঘ্নে নিজের দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেই কারণেই এই অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষাব্যবস্থা জরুরি বলে পর্যবেক্ষণ আদালতের। নিজের কেন্দ্রে যাওয়ার সময় একাধিকবার হেনস্তা ও বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে দাবি করে দায়ের করা একটি রিট আবেদনের শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ প্রদান করেন।

আদালতে মহুয়া মৈত্রের পক্ষে উপস্থিত হয়ে প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করেন যে, সাংসদ নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে অবাধে প্রবেশ করতে না পারায় তাঁর সংসদীয় কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। শুনানিতে তিনি অভিযোগ করেন যে, সাংসদকে লক্ষ্য করে প্রতিনিয়ত পাথর ও আলু ছোড়া হচ্ছে এবং হেনস্তা করা হচ্ছে। সার্কিট হাউসে সাংসদের থাকার সময় রাতের দিকে বরাদ্দ বাতিল হওয়া এবং সেখানে পুলিশের অনুপস্থিতিতে বিরোধী দলের বিক্ষোভের ঘটনার প্রসঙ্গও আদালতে উত্থাপন করেন তিনি। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও উল্লেখ করেন যে, ঘটনার বিস্তারিত তথ্য স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে জানানোর পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের ডিজিকেও হোয়াটসঅ্যাপ মারফত অবগত করা হয়েছিল, কিন্তু পুলিশের সাড়া পেতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লেগে যায়।

শুনানি চলাকালীন আদালত তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে এই ধরনের ঘটনার প্রভাব সম্পর্কে প্রশ্ন তোলে। বিচারপতি মন্তব্য করেন, একজন সাংসদ নিজের কেন্দ্রে প্রবেশের সময় যদি ডিম ছোড়া বা হেনস্তার মুখে পড়েন, তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির কর্মীদের ক্ষেত্রে কী পরিস্থিতি তৈরি হবে। একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই রাজ্য প্রশাসনকে এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে।

অন্যদিকে রাজ্যের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল (এএজি) রাজদীপ মজুমদার শুনানিতে জানান যে, সাংসদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, আবেদনে উল্লেখিত শেষ ঘটনাটি গত ২ জুলাইয়ের। সাংসদ হিসেবে তিনি ইতিমধ্যে সুরক্ষা পেয়ে থাকেন বলেও এএজি আদালতে সওয়াল করেন। তবে আদালত প্রশ্ন তোলে, যদি পর্যাপ্ত সুরক্ষা থেকেই থাকে তবে কীভাবে এই ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটল এবং পুলিশকে এফআইআর দায়ের করতে হলো, যা প্রাথমিকভাবে নিরাপত্তার ত্রুটির ইঙ্গিত দেয়।

উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দেয় যে, পরবর্তী ৩০ দিনের জন্য মহুয়া মৈত্র যখনই নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে যাবেন, তাঁর সঙ্গে দুজন পুলিশকর্মী মোতায়েন করতে হবে যাতে তিনি কোনো ধরনের হেনস্তা ছাড়া নিজের কাজ পরিচালনা করতে পারেন। সাংসদ কবে নিজের কেন্দ্রে যাবেন, তা আগেভাগে পুলিশকে জানিয়ে দেবেন এবং সেই অনুযায়ী পুলিশ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে। আগামী ১ অক্টোবর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে রাজ্যকে নতুন রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply