বেঙ্গালুরু, ১ সেপ্টেম্বর:
কংগ্রেস শাসিত কর্ণাটকে নথিবিহীন অনুপ্রবেশকারী শনাক্তকরণ অভিযানের নামে পশ্চিমবঙ্গের বাংলাভাষী মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্তা ও গণহারে আটকের অভিযোগ উঠেছে। বেঙ্গালুরু সিটি পুলিশের বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন মুক্তা’-র আওতায় শহরের প্রায় ৯০টি স্থানে তল্লাশি চালিয়ে আনুমানিক ৩,০০০ শ্রমিককে আটক করা হয়, যাদের সিংহভাগই পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও বর্জ্য পৃথকীকরণের কাজের সঙ্গে যুক্ত। মানবাধিকার কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যথাযথ প্রমাণপত্র থাকা সত্ত্বেও বাংলাভাষী ভারতীয় নাগরিকদের জোরপূর্বক আটক করে থানায় এবং বিভিন্ন অস্থায়ী শিবিরে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী রফিকুল বিশ্বাসকে গত বছর আগস্ট মাসে বেঙ্গালুরু থেকে বেআইনি বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করে আটক করা হয়েছিল। ভারতীয় পাসপোর্ট, ভোটার পরিচয়পত্র, আধার কার্ড এবং নদিয়ার স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের নিশ্চিতকরণ রিপোর্ট থাকা সত্ত্বেও তিনি চার মাস ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ছিলেন। পরবর্তীতে কর্ণাটক হাইকোর্ট তাঁকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে রায় দেয় এবং উল্লেখ করে যে তাঁর পরিবার বহু প্রজন্ম ধরে ভারতে বসবাস করছে। কিন্তু আদালতের এই রায়ের মাত্র চার দিন পর, গত ৮ আগস্ট সকালে পুনরায় পুলিশ তাঁর বাড়িতে হানা দিয়ে তাঁকেও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে নিয়ে যায় এবং আদালতের নির্দেশ দেখতেও অস্বীকার করে।
একইভাবে নদিয়া জেলার ৫৬ বছর বয়সী শেখ কাদের, যিনি দীর্ঘ ২১ বছর ধরে বেঙ্গালুরুতে বসবাস করছেন, জানান যে তাঁকে সকালে পথ থেকে কোনো নথি যাচাই ছাড়াই শুধু চেহারা ও পোশাক দেখে বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে আটক করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটক প্রায় ৩,০০০ শ্রমিকের মধ্যে মাত্র ১০৫ জনকে প্রকৃত নথিবিহীন অনুপ্রবেশকারী হিসেবে পাওয়া গেছে, বাকিদের দীর্ঘ ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা বিভিন্ন ম্যারেজ হল, হোটেল ও ডিটেনশন সেন্টারে আটকে রাখার পর মুক্তি দেওয়া হয়। মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ, যিনি তাঁর ভাইঝির চিকিৎসার জন্য শহরে এসেছিলেন, কোনো অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও তাঁকেও দিনভর আটক রেখে বায়োমেট্রিক দিতে বাধ্য করা হয়।
বেঙ্গালুরুর মানবাধিকার সংগঠন ও অ্যাক্টিভিস্টরা এই গণ-আটক অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। অভিবাসী ও বাস্তুচ্যুত মানুষদের নিয়ে কর্মরত অধিকারকর্মী অবসিক্তা বলেন, কর্ণাটকে বাংলাভাষী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে জাতিগত বিদ্বেষমূলক বয়ান তৈরি করা হচ্ছে এবং প্রতিটি বাংলাভাষী অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিককে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। অল ইন্ডিয়া শ্রমিক স্বরাজ কেন্দ্রের রফিকুল করিম উল্লাহর মতে, দক্ষিণপন্থী গোষ্ঠীগুলির চাপ ও সামাজিক মাধ্যমের প্রচারের কাছে নতিস্বীকার করে রাজ্য প্রশাসন সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে এই কঠোর পদক্ষেপে নেমেছে, যার বলি হচ্ছেন দরিদ্র ও বৈধ ভারতীয় নাগরিকরা।স
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

