নতুন দিল্লি, ১ সেপ্টেম্বর:
হজ ২০২৭-এর জন্য কম খরচের প্রস্তাব দেওয়া সংস্থাকে উপেক্ষা করে আবারও এক পুরনো সংস্থাকে কম্প্রিহেনসিভ সার্ভিস প্যাকেজের (সিএসপি) দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সৌদি আরবে ভারতীয় হজযাত্রীদের নিম্নমানের পরিষেবা দেওয়া এবং ক্রমাগত খরচ বৃদ্ধি নিয়ে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বিতর্কিত সংস্থাকেই টানা চতুর্থ বছরের জন্য নির্বাচিত করার ঘটনায় কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজনৈতিক নেতা ও অধিকারকর্মীরা।
অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এআইইউডিএফ) প্রধান তথা প্রাক্তন সাংসদ বদরুদ্দিন আজমল এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, দরপত্রে অন্য একটি সংস্থা কম খরচ প্রস্তাব করা সত্ত্বেও ‘ইথরা আল খায়ের’ সংস্থাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, নির্বাচিত সংস্থাটি প্রতি হজযাত্রীর জন্য ২,৯২৯ সৌদি রিয়াল দর দিয়েছিল, যেখানে অন্য একটি সংস্থা ২,৬৫০ রিয়াল দর দিয়েছিল। ফলে বেশি দরের সংস্থাকে নির্বাচিত করায় হজযাত্রীদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপবে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে আম আদমি পার্টির রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় সিং এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করেছেন যে, এই ব্যবস্থার ফলে প্রতিটি হজযাত্রীর খরচের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। তিনি দাবি করেন, এই সিদ্ধান্তের কারণে প্রতি হজযাত্রীর খরচ প্রায় ৩০ হাজার টাকারও বেশি বাড়তে পারে। গত বছরও একই সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়ার কারণে মাথাপিছু প্রায় ৬ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ দিতে হয়েছিল। একটি প্রযুক্তিগত কমিটি অন্য সংস্থাকে সুপারিশ করা সত্ত্বেও কীভাবে টানা চার বছর ধরে একই সংস্থাকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
সাংবাদিক সৈয়দ জেগাম মুর্তজাও এই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে উল্লেখ করেছেন যে কোয়ালিটি অ্যান্ড কস্ট বেসড সিলেকশন প্রক্রিয়ার আওতায় অন্য একটি সংস্থা এল-১ দরদাতা হওয়া সত্ত্বেও বেশি দরের সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১ লক্ষ ২২ হাজার ভারতীয় হজযাত্রীর ক্ষেত্রে এই খরচের পার্থক্য সামগ্রিকভাবে ৩০০ কোটি টাকারও বেশি অতিরিক্ত ব্যয়ের সমান হতে পারে।
চলতি বছরের মে মাসে মক্কার আজিজিয়ায় অবস্থানরত ভারতীয় হজযাত্রীরা অপর্যাপ্ত ও অস্বাস্থ্যকর আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে বেশ কিছু ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে একটি মাত্র শৌচাগার সম্বলিত একটি কক্ষে ১৬ জন করে হজযাত্রীকে রাখা হয়েছিল এবং লিফট বিকলসহ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। অথচ স্থানভেদে প্রতিটি হজযাত্রীকে প্রায় ৩.৩৩ লক্ষ থেকে ৪.০৯ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়েছিল। যদিও তখন ভারতীয় হজ কার্যালয় এটিকে সামান্য পাইপলাইনের সমস্যা বলে দাবি করেছিল।
সমালোচনার জবাবে কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রক কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ খারিজ করে জানিয়েছে যে একটি নির্দিষ্ট ও সুবিন্যস্ত দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই সংস্থাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রক জানিয়েছে, সর্বনিম্ন আর্থিক দরই নির্বাচনের একমাত্র মাপকাঠি নয়; গুণমান, সক্ষমতা, পরিচালনাগত প্রস্তুতি এবং সামগ্রিক আর্থিক দিকগুলি বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
