তেহরান,১২ জুলাই, ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরম সীমায় পৌঁছেছে। গত কয়েকদিন ধরে ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপর্যুপরি এবং বিধ্বংসী বিমান হামলার পর এবার পাল্টা আঘাত হেনেছে তেহরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এবং দেশটির সেনাবাহিনী মার্কিন স্বার্থ ও সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে বাহরাইন, কুয়েত, ওমান এবং জর্ডানে একযোগে শক্তিশালী মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ (IRNA) জানিয়েছে, এই হামলা মূলত ওই অঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমান ঘাঁটি, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ড্রোন কমান্ড সেন্টার এবং কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমান ঘাঁটিতে সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে। এছাড়া ওমানের ডুকম (Duqm) বন্দরে মার্কিন যুদ্ধবিমানের লজিস্টিক ও জ্বালানি সহায়তা কেন্দ্রেও ভারী ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।
এই হামলার পর সমগ্র পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বাহরাইনে সোমবার সকালে দ্বিতীয়বারের মতো বিমান হামলার সাইরেন বাজানো হয় এবং নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যেখানে ইরানের বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে স্থানীয় প্রতিরক্ষাবাহিনী।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, তারা সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের প্রায় ১৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে তীব্র হামলা চালিয়েছে। আমেরিকার এই ভয়াবহ বোমাবর্ষণের পরপরই ইরান পাল্টা কৌশল হিসেবে এই আঞ্চলিক হামলা শুরু করে এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীটি “পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত” বন্ধ ঘোষণা করে।
বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের পর ইরান তার প্রতিবেশী আরব রাষ্ট্রগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে এবং মার্কিন বাহিনীকে ওই অঞ্চল থেকে হঠাতে এই রণকৌশল বেছে নিয়েছে। এই সর্বাত্মক হামলার ফলে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যেকার যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে, যা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী এবং ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
