কলকাতা,১৩ জুলাই, ২০২৬: প্রতি বছরের মতো এবারও ২১ জুলাইয়ের ‘শহিদ দিবস’ সমাবেশকে কেন্দ্র করে সরগরম রাজ্যের রাজনীতি। তবে এবারের সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে নবগঠিত ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)। মধ্য কলকাতায় আগামী ৬০ দিনের জন্য বিএনএসএস-এর ১৬৩ ধারা (যা প্রাক্তন সিআরপিসির ১৪৪ ধারার সমতুল্য) জারি করার পুলিশি সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস। পুলিশের এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের চেষ্টা’ বলে দাবি করে এর আইনি যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল।
আনন্দবাজার ডট কম-এর ডিজিটাল প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৃণমূলের দাবি— দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতি বছর ২১ জুলাই ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে এই ঐতিহ্যবাহী সমাবেশ আয়োজিত হয়ে আসছে। ১৯৯৩ সালের ঘটনার স্মরণে এই দিনটি অত্যন্ত আবেগপূর্ণ। কিন্তু হঠাৎ করে সেই নির্দিষ্ট চত্বরে টানা দুই মাসের জন্য রাজনৈতিক বা গণ-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তৃণমূলের শীর্ষনেতৃত্ব এবং বর্ষীয়ান আইনজীবীদের বক্তব্য, প্রশাসন বা পুলিশের এই ধরণের পদক্ষেপ বিরোধী শিবিরের উসকানিতে এবং রাজনৈতিক স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে, যাতে ২১ জুলাইয়ের মেগা সমাবেশ ব্যাহত করা যায়। অন্যদিকে, ইতিপূর্বে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং জনজীবন সচল রাখার বিষয়ে আদালতের কিছু পর্যবেক্ষণ থাকলেও, একযোগে ৬০ দিনের জন্য ১৬৩ ধারা বলবৎ করার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না বলে হাইকোর্টে সওয়াল করেছেন তৃণমূলের আইনজীবীরা।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বেও শহরের আইন-শৃঙ্খলা ও ট্র্যাফিক সচল রাখার পরীক্ষা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট বিভিন্ন নির্দেশিকা দিয়েছিল, যেখানে পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। তবে এবার সরাসরি বিএনএসএস ১৬৩ ধারার প্রয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার কারণে বিষয়টি নিয়ে আইনি জল বহুদূর গড়াবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের একক বেঞ্চে এই মামলার জরুরি শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
