ওয়াশিংটন, ২০ আগস্ট:
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবতের প্রস্তাবিত আমেরিকা সফরের আগে ভারতের এই হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কোনো বৈঠক ও কূটনৈতিক সৌজন্য প্রদর্শন না করতে মার্কিন প্রশাসনকে আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত মার্কিন কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ)। একই সঙ্গে মুসলিম ও খ্রিস্টানসহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার দায়ে অভিযুক্ত আরএসএস সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য পুনরায় দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
ইউএসসিআইআরএফ-এর চেয়ার আসিফ মাহমুদ বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আরএসএস-এর একজন সদস্য। তিনি আরএসএস-কে একটি মূল সংগঠন হিসেবে বর্ণনা করে উল্লেখ করেন যে এর সহযোগী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তিনি এক বিবৃতিতে জানান, এবার সেই আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত আমেরিকা সফরের পরিকল্পনা করছেন।
কমিশনের কমিশনার জিন মিলস জানান, মার্কিন কর্তৃপক্ষের উচিত আরএসএস নেতাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের সাক্ষাৎ বা বৈঠক থেকে বিরত থাকা। পাশাপাশি কমিশনের পক্ষ থেকে যেসব বিষয়কে ধর্মীয় স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত নিষেধাজ্ঞা বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সংস্থাটি তাদের ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে ভারতকে বিশেষ উদ্বেগের দেশ বা ‘কান্ট্রি অব পার্টিকুলার কনসার্ন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করেছে। ধর্মীয় স্বাধীনতার গুরুতর লঙ্ঘনে জড়িত থাকা অথবা তা মেনে নেওয়ার দায়ে আরএসএসসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের ওপর লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা জারির কথাও বলা হয়েছে। এছাড়া নিষিদ্ধ ঘোষিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা এবং তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশনের মতে, ভবিষ্যতে ভারতকে নিরাপত্তা সহায়তা ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নীতি প্রদানের বিষয়টি ধর্মীয় স্বাধীনতার উন্নতির সঙ্গে যুক্ত করা এবং অস্ত্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় অস্ত্র বিক্রি স্থগিত রাখা উচিত।
ইউএসসিআইআরএফ উল্লেখ করেছে, ২০২৫ সালে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। এর প্রমাণ হিসেবে বৈষম্যমূলক আইন প্রণয়ন, মুসলিম ও খ্রিস্টানদের ওপর হিন্দু জাতীয়তাবাদী জনতার হামলা এবং সংখ্যালঘু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিশানা করার মতো ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষভাবে ২০২৫ সালের ওয়াকফ আইন এবং উত্তরাখণ্ডের ইউএসএএমই আইনের মতো পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে কমিশন জানিয়েছে যে এসব উদ্যোগ সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে।
এছাড়া ধর্মান্তরবিরোধী আইনের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের কথাও তুলে ধরেছে মার্কিন প্যানেল। তারা জানায়, ভারতের একাধিক রাজ্য এই আইনের পরিধি বাড়িয়েছে এবং শাস্তির মাত্রা বৃদ্ধি করেছে। ভারতের ২৮টি রাজ্যের মধ্যে ১২টিতেই এই ধরনের আইন রয়েছে এবং ২০২৫ সালে বেশ কয়েকটি রাজ্য নতুন করে এই আইন এনেছে বা বিদ্যমান আইনকে আরও কঠোর করেছে। ১৯৯৮ সালের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা আইনের অধীনে গঠিত ইউএসসিআইআরএফ একটি দ্বিদলীয় মার্কিন ফেডারেল সরকারি সংস্থা, যা বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কংগ্রেসের কাছে নীতিগত সুপারিশ পেশ করে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

