নয়াদিল্লি, ২০ আগস্ট:
সুপ্রিম কোর্টের ২০১৯ সালের অযোধ্যা রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের করা মামলায় আরোপিত ৬ লাখ টাকার আইনি খরচ পরিশোধ না করায় আইনজীবী মেহমুদ প্রাচ্যার অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছে দিল্লির একটি আদালত। পাতিয়ালা হাউস কোর্টের বিচারক মেধা আর্য নিউ দিল্লি ডিস্ট্রিক্ট লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটির দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে এই নির্দেশ জারি করেছেন।
আদালত জানিয়েছে, রায় দেনাদার মেহমুদ প্রাচ্যাকে আপত্তি দাখিলের জন্য একাধিক সুযোগ দেওয়া সত্ত্বেও তিনি তা করেননি। ফলে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ফি জমা দেওয়া সাপেক্ষে ডিক্রি করা অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য তাঁর অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ক্রোক প্রক্রিয়া কার্যকর করতে প্রয়োজনে বেলিফকে তালা ভেঙে প্রবেশের অনুমতিও দিয়েছে আদালত। মামলাটি আগামী ২৭ আগস্ট অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে এবং আগামী ১ অক্টোবর বিচারক আর্যার এজলাসে শুনানির জন্য নির্ধারিত রয়েছে।
২০১৯ সালের নভেম্বরের অযোধ্যা রায়কে বাতিল এবং অকার্যকর ঘোষণার আবেদন জানিয়ে মেহমুদ প্রাচ্যার একটি দেওয়ানি মামলা থেকেই এই আইনি প্রক্রিয়ার সূত্রপাত। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে একটি নিম্ন আদালত মামলাটি খারিজ করে ১ লাখ টাকার জরিমানা ধার্য করে। পরবর্তীতে জেলা বিচারক ধর্মেন্দর রানা সেই খারিজের আদেশ বহাল রাখেন এবং অতিরিক্ত ৫ লাখ টাকার জরিমানা যোগ করে মোট জরিমানার পরিমাণ ৬ লাখ টাকা করেন। আদালত এই মামলাটিকে অপ্রয়োজনীয় আখ্যা দিয়ে জানিয়েছিল যে আদালতের ওপর মামলাজটের চাপ থাকার কারণে এ ধরনের অনর্থক মামলার প্রবণতা বন্ধ করতেই জরিমানা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
মেহমুদ প্রাচ্যা তাঁর আবেদনে ২০২৪ সালে পুনেতে একটি অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের বক্তব্যের উল্লেখ করেছিলেন। সেখানে বলা হয়েছিল যে রামলালা বিরাজমানের কাছ থেকে নির্দেশনার কথা তিনি উল্লেখ করেছিলেন। এর ভিত্তিতেই তিনি আগের রায়টি বাতিল করার দাবি তোলেন। তবে আদালত এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে জানায় যে সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে নির্দেশনা প্রার্থনা করা কোনো জালিয়াতি নয়। পাশাপাশি তিনি মূল অযোধ্যা মামলার পক্ষ না হওয়ায় তাঁর এই আবেদন করার আইনি অধিকার নেই বলেও আদালত জানায়।
২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের সংবিধান বেঞ্চ সর্বসম্মতিক্রমে অযোধ্যা মামলার রায় প্রদান করে রাম মন্দির নির্মাণের জন্য ২.৭৭ একর বিতর্কিত জমি প্রদান করে এবং মসজিদ নির্মাণের জন্য সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডকে বিকল্প ৫ একর জমি বরাদ্দের নির্দেশ দেয়। পাতিয়ালা হাউস কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশটি সেই মূল রায়ের ওপর নয়, বরং মামলা খারিজের পর ধার্য করা ৬ লাখ টাকার বকেয়া আদায়ের আইনি প্রক্রিয়া।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

