নিজস্ব সংবাদদাতা, তিরুবনন্তপুরম: কেরালার রাজধানী তিরুবনন্তপুরম কর্পোরেশনে রাজনৈতিক মহলে পারদ চড়ছে। রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে এখন একটাই চর্চা— কড়া ‘কাপা’ (KAAPA) বা ‘অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাকটিভিটিজ প্রিভেনশন অ্যাক্ট’-এ বন্দি পদ্মশিবিরের প্রভাবশালী কাউন্সিলর আর সুগতনের ভবিষ্যৎ কী? ভিয়্যুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার থেকে কড়া পুলিশি পাহারায় সুগতনকে ইতিমধ্যেই তিরুবনন্তপুরমে নিয়ে আসা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, আজ, বুধবার নেডুমাঙ্গাদ আদালতে অন্য দুটি ফৌজদারি মামলায় হাজির করানো হবে তাঁকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেরালার বাম-কংগ্রেস জোট বনাম বিজেপির সংঘাত এক নজিরবিহীন মোড় নিয়েছে।
তিরুবনন্তপুরম কর্পোরেশনের ভাজোত্তুকোনাম ওয়ার্ডের নির্বাচিত প্রতিনিধি আর সুগতন। জুনের গোড়ার দিকে গভীর রাতে তাঁর নিজের বাড়ি ঘেরাও করে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঠিক কী অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে? পুলিশি সুত্রে খবর, মাস দুয়েক আগে ভেল্লাইকাদাভু মন্দির উৎসব চলাকালীন সিপিআই(এম) কর্মীদের ওপর এক রক্তক্ষয়ী হামলায় সরাসরি নাম জড়ায় সুগতনের। লালবাজারের মতো কেরালার গোয়েন্দা বিভাগের দাবি, সুগতনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা সহ অন্তত ১০টি গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তিনি একজন ‘দাগি অপরাধী’। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে খোদ জেলাশাসকের নির্দেশে তাঁর বিরুদ্ধে রাজ্যের চরম দমনমূলক ‘গুন্ডা আইন’ বা কাপা প্রয়োগ করা হয়। শোনা যাচ্ছে, গ্রেপ্তারি অভিযানের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে শূন্যে গুলি পর্যন্ত চালাতে হয়েছিল।
এদিকে, সুগতনের গ্রেপ্তারিকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে দাগিয়ে দিয়ে আসরে নেমেছে বিজেপি। দলের জেলা সভাপতি করমানা জয়নের তোপ, “সুগতন মাটির মানুষ, জনপ্রিয় নেতা। তাঁর রাজনৈতিক উত্থানে ভয় পেয়েই কাল্পনিক গল্প ফেঁদেছে পিনারাই বিজয়নের পুলিশ। এমনকি গ্রেপ্তারের নামে ওঁর ছোট ছোট সন্তানদের ওপর মানসিক অত্যাচার চালানো হয়েছে।” বিজেপির দাবি, এর আগেও ২০২৩ ও ২০২৫ সালে সুগতনের বিরুদ্ধে এই কালো আইন প্রয়োগের চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু আদালত তা খারিজ করে দেয়। এবারও তাঁরা আইনি লড়াই লড়বেন।
পাল্টা সুর চড়িয়েছে সিপিআই(এম) ও কংগ্রেস। দুই শিবিরেরই এক রা— সুগতনকে অবিলম্বে কর্পোরেশন থেকে বহিষ্কার করতে হবে। এই দাবিকে কেন্দ্র করে গত পরশু কর্পোরেশনের ভেতরেই যুযুধান দু’পক্ষের কাউন্সিলরদের মধ্যে তুমুল হাতাহাতি ও চেয়ার-টেবিল ভাঙচুরের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিরুবনন্তপুরম কর্পোরেশনে যখন জমি শক্ত করতে চাইছে গেরুয়া শিবির, ঠিক তখনই এই ঘটনা দলের ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা। একদিকে টানা অনুপস্থিতির কারণে সুগতনের কাউন্সিলর পদ খারিজের খাঁড়া ঝুলছে, অন্যদিকে আদালতের নির্দেশে নতুন করে আরও ২০ জন কাউন্সিলরের পুনঃশপথের আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে পুর-বোর্ড টিকিয়ে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
কেরালা রাজনীতিতে ‘কাপা’ আইনের রাজনৈতিক অপব্যবহার নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। বিরোধীদের তোপ, বিরোধীদের মুখ বন্ধ করতেই এই আইনকে অস্ত্র করছে বিজয়ন সরকার। যদিও প্রশাসনের স্পষ্ট জবাব, অপরাধী সে যে দলেরই হোক, পার পাবে না। আজ নেডুমাঙ্গাদ আদালতের এজলাসে সুগতনকে তোলা হলে বিচারক কী নির্দেশ দেন, আপাতত সে দিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
