~হাফিজুর রহমান
গদি চ্যানেলের অত্যাচারে খবর দেখা ছেড়েছি অনেকদিন। ইউটিউবে খবর দেখি, কিন্তু এখন সেখানেও ‘শিং ভেঙে বাছুর সেজে’ গদি চ্যানেলের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। যে হারে মানুষ খবর দেখা বন্ধ করেছে এবং চ্যানেলের বিশ্বাসযোগ্যতা কমেছে, তাতে তারা ইউটিউবের শরণ নিতে বাধ্য হয়েছে। স্বভাবমতো এখানেও তারা শাসক শ্রেণির দালালি করছে। অবশ্য ওদের দোষ নেই; কী করবে, নুন খেয়েছে তো গুণ গাইতে হবে!
ওদের মতে, এবারের নির্বাচনে ‘বাপের জমিদারি’ পার্টি আসতে চলেছে। এমনকি ভোট বেশি পড়লেও সেটা ‘স্যারের’ ম্যাজিকের ফলে হচ্ছে বলে নিদান দিচ্ছে। এর আগে বিহার ও মহারাষ্ট্র নির্বাচনে আমরা দেখেছি কীভাবে মানুষ শাসক শ্রেণির নেতাদের জুতো-ঝাঁটা দিয়ে বরণ করেছে। দিল্লি থেকে উড়ে আসা নেতাদের সভায় সারি সারি খালি চেয়ারের ছবিও দেখেছি। অথচ ভোটের রেজাল্ট বেরোতে অবাক হয়ে দেখেছি—কোন এক জাদু বলে সেই লাঠিপেটা খাওয়া প্রার্থীরাই বত্রিশ পাটি দাঁত বের করে বিজয়ী হয়েছে! রেফারি ম্যানেজ করলে কী হয়, তা সহজেই অনুমান করা যায়। এখানে রেফারি হলো নির্বাচন কমিশন। মহারাষ্ট্র ও বিহারে খেল দেখাবার পর এখানে কী খেল দেখাবে, সেই অপেক্ষায় আছি।
রাহুল গান্ধী একের পর এক তথ্য দিয়ে প্রমাণ করেছেন কীভাবে ভোট ম্যানিপুলেশন করে রেজাল্ট পাল্টে দেওয়া হয়েছে। পুকুর চুরি করে ‘বাপের জমিদারি’ পার্টির হয়ে ভোট জালিয়াতি করে ক্ষমতায় বসানোর চেষ্টা চলছে। কাজেই বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেল খেটে পয়সা খরচ করে যে সার্ভে রিপোর্ট তৈরি করছে, তাতে তৃণমূল জিতলেও খেলা পাল্টে যেতে পারে।
অনেকে হয়তো বিরক্ত হচ্ছেন, কিন্তু লেখাটি ভুল প্রমাণিত হলে আমিই সবথেকে বেশি খুশি হব। দ্বিতীয় দফায় ভোট মিটলেও কাজ শেষ হবে না। কারণ ২৯ এপ্রিল ভোট মিটলেও মে মাসের ৩ তারিখের মধ্যে ‘খেলা’ হতে পারে। বিহার ও মহারাষ্ট্রে মাঝরাতে ব্যালট বাক্সের লরি আর ইভিএম ঢুকেছিল; মানুষ জড়ো হতেই লাঠি চালিয়ে ভিড় খালি করা হয়েছিল। এখানেও একই কাহিনীর পুনরাবৃত্তি হতে পারে। কাজেই গা-ছাড়া দিলে হবে না; ৪ তারিখ কাউন্টিং শেষ হওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে, নাহলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
যেভাবে ‘দুই নম্বর’ নেতা সব ছেড়ে মাটি কামড়ে পড়ে আছে, তা দেখে মনে হচ্ছে ‘ডাল মে কুছ কালা হ্যায়’। ঘরপোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়—একথা নিশ্চয়ই নতুন করে বোঝাতে হবে না।
