বারেলি ১৮ ই জানুয়ারি :উত্তর প্রদেশের বারেলি জেলাতে খালি বাড়িতে জুম্মার নামাজ পড়ার অভিযোগে ১২ জনকে আটক করল। বরেলি জেলার মোহাম্মদগঞ্জ গ্রামে একটি খালি বাড়িতে শান্তিপূর্ণভাবে জুম্মার নামাজ আদায় করার অভিযোগে ১২ জনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। এই ঘটনা ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬-এ ঘটে এবং এটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওর পর পুলিশের তৎপরতায় পরিণত হয়। ভারতের সংবিধানের মৌলিক অধিকারের অধীনে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত ইবাদতের অধিকার নিয়ে এই ঘটনা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।পুলিশের বক্তব্য অনুসারে, বিশারতগঞ্জ থানা এলাকার এই খালি বাড়িটি কয়েক সপ্তাহ ধরে অস্থায়ী মাদ্রাসা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। গ্রামবাসীদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নামাজরতদের আটক করে। বরেলির দক্ষিণ বিভাগের এসপি অংশিকা বর্মা জানিয়েছেন, বাড়ির মালিক হানিফের এই সম্পত্তিতে কোনো লিখিত অনুমতি বা বৈধ নথি ছিল না। কিছু গ্রামবাসী নিয়মিত নামাজের বিরোধিতা করে পুলিশকে অবহিত করেন, যার ফলে পুলিশ এই পদক্ষেপ নেয়।এই ঘটনার পর ভীম আর্মির প্রতিষ্ঠাতা ও লোকসভার সাংসদ চন্দ্রশেখর আজাদ এক্স (সাবেক টুইটার)-এ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি লেখেন, “এটি শুধু লজ্জাজনক নয়, সংবিধানের উপর সরাসরি আক্রমণ। যদি কোনো আইন-শৃঙ্খলার প্রকৃত বিপদ না থাকে, তাহলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কেন?” তিনি অবিলম্বে আটকদের মুক্তি, দায়ী অফিসারদের জবাবদিহিতা এবং ধর্মের ভিত্তিতে পুলিশি অত্যাচার বন্ধের দাবি জানান।
এই ঘটনা উত্তরপ্রদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর পুলিশি হস্তক্ষেপের একটি ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন যে, ব্যক্তিগত বাড়িতে নামাজ পড়া কীভাবে শান্তি ভঙ্গের অভিযোগে পরিণত হয়, যেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভজন-কীর্তন বা পূজা-অর্চনায় অনুরূপ কঠোরতা দেখা যায় না। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে এটিকে “ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর আক্রমণ” বলে অভিহিত করেছেন।অন্যদিকে, পুলিশের দাবি হলো এটি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ। কোনো লিখিত অনুমতি না থাকায় এবং গ্রামবাসীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিছু রিপোর্টে বলা হয়েছে, আটকদের পরে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়েছে এবং জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।এই ঘটনা ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা ও সংবিধানিক অধিকার নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের সূচনা করেছে। অনেকে মনে করেন, ব্যক্তিগত স্থানে শান্তিপূর্ণ ইবাদতের জন্য পুলিশি অনুমতির প্রয়োজন হলে তা সংবিধানের ২৫ নং অনুচ্ছেদের (ধর্মীয় স্বাধীনতা) লঙ্ঘন।এই ধরনের ঘটনা সমাজে বিভাজন বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। সরকারের উচিত এই বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রেখে সকল ধর্মের প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করা।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

