নয়াদিল্লি, ২৫ জুলাই: রাজধানী দিল্লিতে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী আন্দোলন চরম রূপ ধারণ করেছে। একদিকে আন্দোলনরত তরুণ প্রজন্ম রাজপথে নেমে নিজেদের দাবির পক্ষে সোচ্চার, অন্যদিকে এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন তুঙ্গে। এরই মাঝে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রাক্তন লোকসভা সাংসদ প্রজ্ঞাসিং ঠাকুর (সাধ্বী প্রজ্ঞা) এক অত্যন্ত বিতর্কিত ও বিস্ফোরক মন্তব্য করে জল আরও ঘোলা করে দিলেন। রাজধানীর রাজপথে বিক্ষোভ চলাকালেই প্রজ্ঞা ঠাকুর সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের রূপক হিসেবে “আরশোলা” আখ্যা দিয়ে যেন তাঁদের “নির্মূল” করা হয় এবং “দেশ পরিষ্কার” করা হয়।
সম্প্রতি দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগে দিল্লির জন্তর মন্তরসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী জড়ো হয়েছেন। ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) নাম দিয়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন দেশের তরুণ সমাজ থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক ও পেশাজীবীরা। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক সংস্কারের দাবিতে এই বিক্ষোভ ক্রমান্বয়ে তীব্র হচ্ছে।
আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগের ঘটনা ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিরোধী দলগুলোও সরকারের এই কঠোর ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে আন্দোলনকারীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।
ঠিক সেই মুহূর্তে বিজেপির প্রবীণ নেত্রী তথা মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলায় অভিযুক্ত প্রাক্তন সাংসদ প্রজ্ঞা ঠাকুরের এমন কঠোর ও বিতর্কিত মন্তব্য দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রাজধানীর উত্তাল পরিস্থিতির উল্লেখ করে প্রজ্ঞা ঠাকুর মন্তব্য করেন যে, আন্দোলনের নামে শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী এই উপাদানগুলো দেশের জন্য এক ধরনের ক্ষতিকারক কীট। তিনি সরকারকে কঠোর হাতে এই বিক্ষোভ দমন করার এবং “দেশ থেকে এই ধরনের আরশোলা সাফ করে দেশকে পরিচ্ছন্ন করার” জন্য আহ্বান জানান।
প্রজ্ঞা ঠাকুরের এই মন্তব্য প্রকাশ করতেই সোশাল মিডিয়া এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকার কর্মী থেকে শুরু করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁর এমন “অমানবিক ও সহিংস” বক্তব্যের চরম প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বিরোধীদের দাবি, সরকারের অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার বিরুদ্ধে কথা বলা সংবিধানসম্মত অধিকার। দেশের যুবসমাজ যখন পরীক্ষা ব্যবস্থা ও নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষার দাবিতে রাজপথে নেমেছে, তখন প্রাক্তন এক নারী সাংসদের এমন ভাষাপ্রয়োগ দেশের গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। কংগ্রেসসহ প্রধান বিরোধী দলগুলো এই মন্তব্যের কড়া নিন্দা জানিয়ে দাবি করেছে যে, সরকার তরুণদের কথা শোনার পরিবর্তে দমনপীড়ন ও হিংসাত্মক ভাষার আশ্রয় নিচ্ছে।
অন্যদিকে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া আরও কঠোর। আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এ ধরনের হুমকি বা চরম অপমানজনক মন্তব্যে ভয় পেয়ে তাঁরা পিছিয়ে যাবেন না। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং সুনির্দিষ্ট সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। প্রজ্ঞা ঠাকুরের বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও বেশি সংবেদনশীল করে তুলেছে।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
