ইতিহাস ছুঁয়ে ফাইনালে অনাহত! ২১ বছর পর বিশ্ব জুনিয়র স্কোয়াশের মেগা ফাইনালে প্রথম ভারতীয় কন্যা

ইতিহাস ছুঁয়ে ফাইনালে অনাহত! ২১ বছর পর বিশ্ব জুনিয়র স্কোয়াশের মেগা ফাইনালে প্রথম ভারতীয় কন্যা

নয়াদিল্লি, ২৬ জুলাই: ভারতীয় খেলাধুলোর ইতিহাসে যুক্ত হলো এক নতুন ও উজ্জ্বল অধ্যায়। দীর্ঘ দুই দশকের খরা কাটিয়ে বিশ্ব জুনিয়র স্কোয়াশ চ্যাম্পিয়নশিপের (World Junior Squash Championships) ফাইনালে প্রবেশ করে ইতিহাস গড়লেন ভারতের উদীয়মান তারকা অনাহত সিং (Anahat Singh)। গত ২১ বছরের মধ্যে প্রথম ভারতীয় হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টের খেতাবী লড়াইয়ে পৌঁছানোর নজির গড়লেন তিনি। অনাহতের এই ঐতিহাসিক সাফল্য কেবল ভারতীয় স্কোয়াশেই নয়, বরং বিশ্ব ক্রীড়ামঞ্চে ভারতের অবস্থানকে আরও একবার সুদৃঢ় করল।

সেমিফাইনালের মহারণে আদালতের প্রতিটি কোণায় নিজের আধিপত্য বজায় রেখে অসাধারণ কৌশল ও মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দেন এই তরুণী। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই প্রতিপক্ষের ওপর চাপ বজায় রেখে একের পর এক ম্যাচে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন তিনি। সেমিফাইনালের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে তীব্র চাপের মুখেও নিজের ঠান্ডা মাথার পরিচয় দিয়ে যেভাবে পয়েন্ট তুলে নেন, তা বিশ্ব স্কোয়াশ বিশেষজ্ঞদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তাঁর গতি, নিখুঁত শট নির্বাচন এবং কোর্টে দুর্দান্ত মুভমেন্টের কাছে পরাস্ত হতে হয় প্রতিপক্ষকে।

বিশ্ব জুনিয়র স্কোয়াশ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতীয় স্কোয়াশের ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ হলেও, একক বিভাগে ফাইনালের টিকিট পাওয়া এতদিন অধরাই ছিল। ২০০৫ সালের পর থেকে কোনো ভারতীয় খেলোয়াড় এই টুর্নামেন্টের একক বিভাগের ফাইনালে পৌঁছাতে পারেননি। অনাহত সিং সেই দীর্ঘ ২১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশের জন্য এই নতুন রেকর্ড তৈরি করলেন।

খেলার শুরু থেকেই অনাহতের আক্রমণাত্মক মনোভাব প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে ফেলে। প্রথম সেটে কিছুটা হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনাহত নিজের ফর্মের তুঙ্গে পৌঁছে যান। তাঁর ব্যাকহ্যান্ড ড্রাইভ এবং নিখুঁত ড্রপ শটের উত্তর খুঁজে পেতে রীতিমতো কালঘাম ছুটতে হয় বিপক্ষ প্লেয়ারের। অসাধারণ ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাসের ওপর ভর করে শেষ পর্যন্ত জয়ের শেষ হাসিখাসেন এই ভারতীয় বিস্ময়-বালিকা।

খেলোয়াড় জীবনের শুরু থেকেই অনাহত সিং নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিয়ে আসছেন। জুনিয়র পর্যায়ে একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ট্রফি জেতার পর এবার বিশ্বমঞ্চেও নিজের জাত চেনালেন তিনি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সার্কিটে তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ওপর নজর ছিল ক্রীড়ামহল। বিশ্ব জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে তাঁর এই অভূতপূর্ব যাত্রা প্রমাণ করে যে, বিশ্বমানের টুর্নামেন্টে জয়ের জন্য তিনি কতটা প্রস্তুত।

ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, অনাহতের এই ফাইনালে ওঠার পথ মসৃণ ছিল না। কঠিন ড্র এবং শক্তিশালী সব প্রতিপক্ষকে অতিক্রম করে তাঁকে আজ এই জায়গায় পৌঁছাতে হয়েছে। প্রতি খেলায় নিজের কৌশল পরিবর্তন করা এবং শারীরিক সক্ষমতার সঠিক ব্যবহারই তাঁকে এই টুর্নামেন্টে অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে। ফাইনালে পৌঁছানোর পর এখন পুরো দেশের চোখ রবিবারের মেগা ফাইনালের দিকে, যেখানে স্বর্ণপদক জিতে ইতিহাসকে আরও স্মরণীয় করে তোলাই এখন অনাহতের মূল লক্ষ্য।

অনাহতের এই সাফল্য কেবল তাঁর ব্যক্তিগত জয় নয়, বরং গোটা ভারতের স্কোয়াশ সার্কিটের জন্যই এক বিরাট অনুপ্রেরণা। জাতীয় ক্রীড়া সংস্থা ও ভারতের ক্রীড়ামহল থেকে ইতিমধ্যই অনাহতকে অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসানো হচ্ছে। প্রবীণ স্কোয়াশ খেলোয়াড়দের মতে, এই জয় ভারতের তরুণ প্রজন্মকে আরও বেশি করে স্কোয়াশের মতো খেলাধুলোয় আসার জন্য উৎসাহিত করবে। অনাহতের সামনে এখন স্বর্ণপদক জিতে ইতিহাসের পাতায় সোনার অক্ষরে নিজের নাম খোদাই করার সুবর্ণ সুযোগ।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply