বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর:
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে উঠতেই বিষ্ণুপুর বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক সমীকরণ এক নতুন মোড় নিয়েছে। একদিকে শাসকদল ও অন্য বিরোধী শিবিরের দ্বৈরথ, আর তার মাঝেই “ক্লিন ইমেজ” ও শিক্ষিত প্রার্থীর হাত ধরে হারানো জমি পুনরুদ্ধারে মরিয়া জাতীয় কংগ্রেস।বিষ্ণুপুরের বিশিষ্ট আইনজীবী উজ্জ্বল চন্দ্রের প্রার্থীপদ ঘোষণা এবং তাঁর নির্বাচনী প্রচারের সূচনা ।
বিষ্ণুপুর বিধানসভা নির্বাচনের লড়াই এবার ত্রিমুখী সংঘাতের পথে। একদিকে তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক তন্ময় ঘোষ এবং বিজেপির শুক্লা চ্যাটার্জী, আর তাঁদের মাঝেই ‘মাটির ছেলে’ হিসেবে উঠে এলেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রার্থী উজ্জ্বল চন্দ্র। পেশায় বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতের বিশিষ্ট আইনজীবী উজ্জ্বলবাবু দীর্ঘ ১০ বছর ধরে আইন পেশার সাথে যুক্ত। তাঁর এই পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিই এখন বিষ্ণুপুরের নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।ভক্তি আর জনসংযোগের মেলবন্ধনআজ বুধবার সকালে এক আধ্যাত্মিক আবহের মধ্য দিয়ে নিজের প্রচার কর্মসূচী শুরু করেন কংগ্রেস প্রার্থী। তাঁর আজকের সূচী ছিল নিম্নরূপ:
• সকাল ৯:০০ টা: সর্ব মঙ্গলা মন্দিরে পুজো দিয়ে জয়ের প্রার্থনা করেন।
• সকাল ৯:৩০ টা: বাঁকুড়ার অন্যতম প্রাচীন মৃন্ময়ী মন্দিরে আশীর্বাদ গ্রহণ।
• সকাল ১০:৩০ টা: শক্তিপীঠ ছিন্নমস্তা মন্দিরে পুজো অর্পণ।
• সকাল ১১:৩০ টা: রবীন্দ্র স্ট্যাচু সংলগ্ন বিখ্যাত শান্তি বাবুর চায়ের দোকানে সাধারণ মানুষের সাথে জনসংযোগ ও আড্ডা।রাস্তা থেকে রাজনীতি: সরাসরি আক্রমণপুজো শেষে চায়ের দোকানে সাধারণ ভোটারদের সাথে আলোচনায় বসেন উজ্জ্বল চন্দ্র। বিষ্ণুপুরের বর্তমান ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট এবং বেহাল পুর-পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে হাতিয়ার করে তিনি তাঁর প্রচার শুরু করেন।প্রার্থী উজ্জ্বল চন্দ্রের কথায়:
“বিষ্ণুপুরের মানুষ আজ ক্লান্ত। একদিকে বিজেপির সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের রাজনীতি, আর অন্যদিকে তৃণমূলের পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি। মানুষ এমন একজনকে চাইছেন যিনি তাঁদের আইনি সুরক্ষা যেমন বোঝেন, তেমনই সাধারণের সমস্যাগুলো নিয়ে লড়তে পারেন।”
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জনমতবিষ্ণুপুর বিধানসভার সাধারণ মানুষের মধ্যে উজ্জ্বল চন্দ্রকে নিয়ে এক প্রচ্ছন্ন উন্মাদনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, “আমরা এমন একজনকে খুঁজছিলাম যার গায়ে কোনো দুর্নীতির দাগ নেই এবং যিনি উচ্চশিক্ষিত। আইনজীবী হিসেবে উজ্জ্বলবাবু দীর্ঘ ১০ বছর আমাদের পাশে থেকেছেন, তাই কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তে আমরা খুশি।”বিষ্ণুপুরের লড়াই এখন শুধু গদি দখলের নয়, বরং মর্যাদা পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। তৃণমূল ও বিজেপির হাই-ভোল্টেজ প্রচারের মাঝে কংগ্রেসের এই ‘নিভৃত লড়াই’ কতোটা ফলপ্রসূ হয়, তা আগামী দিনেই জানা যাবে।
উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী উজ্জ্বল চন্দ্রের প্রচারে কংগ্রেসের রাজ্য নেতৃত্ব উদয় চক্রবর্তীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং স্থানীয় কংগ্রেস নেতারা। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন আজিজুর রহমান, নজরুল ইসলাম সহ আরো অনেকেই।
