রাণীনগর: দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মুর্শিদাবাদের রাণীনগরে শাসক শিবিরে বড়সড় ভাঙন ধরল। তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় কংগ্রেসে যোগদান করলেন রাণীনগরের দাপুটে নেতা শাহ আলম। তাঁর সঙ্গেই দল ছাড়লেন পঞ্চায়েতের আরও ৭ জন সদস্য এবং শতাধিক সক্রিয় কর্মী-সমর্থক।
শুক্রবার রাণীনগরে শাহ আলমের নিজস্ব বাসভবনে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে রাণীনগর ১ ব্লকের সহ-সভাপতি জুলফিকার আলীর হাত ধরে তাঁরা কংগ্রেসের পতাকা তুলে নেন। বেশ কিছুদিন ধরেই শাহ আলমের দলবদল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কানাঘুষো চলছিল, আজ তাতে শীলমোহর পড়ল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাহ আলমের এই দলবদল রাণীনগর বিধানসভা এলাকায় কংগ্রেসের জমি আরও শক্ত করল।
- তৃণমূলের ক্ষতি: পঞ্চায়েত স্তরের ৭ জন সদস্য একসঙ্গে দল ছাড়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় শাসক দল সাংগঠনিকভাবে কিছুটা ধাক্কা খেল।
- কংগ্রেসের শক্তি বৃদ্ধি: শাহ আলমের অনুগামী ও শতাধিক কর্মীর উপস্থিতিতে এলাকায় কংগ্রেসের মনোবল তুঙ্গে।
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, শাহ আলমের যোগদানে আগামী নির্বাচনে রাণীনগর বিধানসভা আসনটি কংগ্রেসের জন্য জয়লাভ করা অনেক বেশি সহজ হয়ে উঠবে।
যোগদান শেষে শাহ আলম জানান, এলাকার উন্নয়ন এবং কর্মীদের স্বার্থ রক্ষার্থেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
যোগদান কর্মসূচি শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জুলফিকার আলী বলেন:
আজকের এই যোগদান রাণীনগরের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। শাহ আলম সাহেবের মতো দক্ষ সংগঠক এবং পঞ্চায়েতের ৭ জন সদস্যের আমাদের দলে আসা প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষ এবং কর্মীরা এখন কংগ্রেসের আদর্শের ওপরই ভরসা রাখছেন। তৃণমূলের অপশাসনে মানুষ বীতশ্রদ্ধ, তাই একের পর এক পঞ্চায়েত সদস্য ও কর্মী-সমর্থকরা আজ আমাদের হাত শক্ত করছেন। শাহ আলম ও তাঁর অনুগামীদের উপস্থিতিতে রাণীনগর বিধানসভায় কংগ্রেস এখন অপরাজেয়। আগামী দিনে আমরা এই ব্লকের প্রতিটি কোণায় কংগ্রেসের ঝাণ্ডা আরও উঁচুতে তুলে ধরব।”
