সংখ্যালঘু ও দলিতদের অস্তিত্ব অস্বীকার করছে বিজেপি, তোপ রাহুল গান্ধীর

সংখ্যালঘু ও দলিতদের অস্তিত্ব অস্বীকার করছে বিজেপি, তোপ রাহুল গান্ধীর

নয়াদিল্লি, ২০ আগস্ট:

বিজেপি সরকার দেশের সংখ্যালঘু, আদিবাসী এবং দলিত সম্প্রদায়কে প্রান্তিক করে তুলছে বলে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, ভারতের প্রতিটি নাগরিক যাতে নিজেদের এই দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করেন, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘হারা ভরা স্বরাজ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, দেশের বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীকে যেভাবে সমাজের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে, সেই পরিস্থিতি অবিলম্বে বদলানো প্রয়োজন।

বিজেপির ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিজেপি মুসলিম, খ্রিস্টান এবং শিখ সম্প্রদায়কে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে তাদের কোনও অস্তিত্বই নেই। আদিবাসীদের বলা হচ্ছে যে তাদের জমি কেড়ে নেওয়া হবে এবং তারা প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর গুলি চালানো হবে। দলিতদের ক্ষেত্রেও বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে তাদের ওপর চলা নিপীড়ন ও নির্যাতনের কোনও গুরুত্ব নেই। দেশের এই সামগ্রিক অবস্থাকে পাল্টানো প্রয়োজন।

কংগ্রেস নেতা আরও বলেন, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষের সম্মান পাওয়ার মতো একটি অনুকূল পরিবেশ দেশে গড়ে তুলতে হবে। ধর্ম, বর্ণ, বয়স বা লিঙ্গ যা-ই হোক না কেন, প্রতিটি মানুষের যেন অনুভূতি থাকে যে তারা এই দেশের, তারা ভালোবাসা ও সম্মান পাচ্ছেন এবং তাদের সত্যের অনুসন্ধানের যথাযথ মূল্য রয়েছে।

‘স্বরাজ’ ধারণার ব্যাখ্যা দিয়ে রাহুল গান্ধী উল্লেখ করেন, এই ধারণাটি ভারতীয় চিন্তাভাবনায় গভীরভাবে প্রোথিত এবং একে কেবল ‘স্বাধীনতা’ হিসেবে অনুবাদ করা যায় না। তাঁর মতে, স্বরাজ মানে হলো নিজের ওপর নিজের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। স্বাধীনতা কাউকে দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু স্বরাজ এমন একটি বিষয় যা ব্যক্তিকে নিজেই নিজের মধ্যে আবিষ্কার করতে হয়।

মহাত্মা গান্ধীর দৃষ্টিভঙ্গির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষ এবং প্রতিটি প্রাণ স্বতন্ত্র এবং সত্যের পথে প্রত্যেকের নিজস্ব চলার পথ রয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থা, পরীক্ষা পদ্ধতি, আর্থিক কাঠামো এবং রাজনীতিতে সংস্কার না আনলে এই দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়ন করা অসম্ভব।

রাহুল গান্ধী বলেন, অতিরিক্ত ব্যয়বহুল শিক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যায্য পরীক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে এই আদর্শ টিকে থাকতে পারে না। পাশাপাশি মাত্র দুই-তিনজনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে থাকা অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যেও তা সম্ভব নয়। তিনি দেশের প্রতিটি প্রান্তে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর জোর দেন।

ছাত্র ও যুবসমাজের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের নিজেদের পেশা বেছে নেওয়ার এবং নিজস্ব স্বপ্ন পূরণের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকা উচিত। কেউ ইঞ্জিনিয়ার, বাবুর্চি কিংবা জুতো প্রস্তুতকারক হতে চাইলে তাদের সেই অধিকার দেওয়া উচিত। একইভাবে কেউ মহাকাশচারী হতে চাইলেও তা হওয়ার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। তরুণদের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে আটকে রাখার বদলে তাদের কল্পনার দুয়ার খুলে দেওয়াই সরকারের প্রধান দায়িত্ব।

ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে একটি আদর্শিক লড়াই হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, দেশের পুরো ব্যবস্থা যারা নিয়ন্ত্রণ করছে, তারা ধরে নিয়েছে যে দেশের প্রত্যেকের জন্য একমাত্র তারাই সত্য জানে। এই কারণেই শিক্ষার্থীদের নিশানা করা হচ্ছে। যুবসমাজের ওপর নিজস্ব মত চাপিয়ে দেওয়ার বদলে তাদের কথা শোনা উচিত এবং শিক্ষার্থীদের নিজস্ব ভাবনাকে বোঝার ও সম্মান জানানোর মধ্যেই আসল রাজনৈতিক লড়াই নিহিত রয়েছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply