কলকাতা, ২০ আগস্ট:
রাজ্যে একটি শক্তিশালী এবং দায়িত্বশীল বিরোধী দল থাকা একান্ত প্রয়োজন বলে জোরালো সওয়াল করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর মতে, গণতন্ত্র তখনই সফল হয় যখন সেখানে একটি সংগঠিত ও দায়িত্বশীল বিরোধী দল সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা ও বিরোধিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, গণতন্ত্রের স্বাভাবিক নিয়মে বিরোধিতার পরিসর থাকা অত্যন্ত জরুরি।
শমীক ভট্টাচার্য স্মরণ করিয়ে দেন যে, বিগত ৭০ থেকে ৭৫ বছর ধরে তাঁরা বিরোধিতা করে এসেছেন, কিন্তু কোনোভাবেই হারিয়ে যাননি। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের মানুষ সবকিছু মনে রাখে এবং পর্যবেক্ষণ করে। রাজনৈতিক পথচলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইন্দিরা গান্ধীর প্রয়াণের পরেও দল মাত্র দুটি আসন পেয়েছিল, তবুও দল মুছে যায়নি। বাংলার মনন ও সাধারণ মানুষ এই দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের বিষয়টি নিশ্চয়ই চিন্তা করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিজেপির রাজ্য সভাপতির এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শমীক ভট্টাচার্যের এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধীরা। তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় মন্তব্য করেন, বিরোধী দল থাকা গণতন্ত্রের মূল কথা হলেও বিজেপি নিজেরা তা মানে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বাস্তবে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে, কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে এবং দলীয় কার্যালয় দখল করা হচ্ছে। তাই মুখে শক্তিশালী বিরোধীর কথা বলে কাজে তা বাস্তবায়িত না করলে এমন মন্তব্যের কোনো অর্থ হয় না।
অন্যদিকে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, রাজ্য বিজেপি সভাপতির বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। তবে বাস্তবতা হলো বিরোধিতা করলেই আক্রমণের মুখে পড়তে হয়। তাঁর মতে, অতীতেও এমন অনেক সুন্দর তাত্ত্বিক কথা বলা হয়েছে, কিন্তু বিজেপি নিজেদের কাজের ক্ষেত্রে সেই বক্তব্যের কতটা সামঞ্জস্য বজায় রাখছে, তা খতিয়ে দেখলে স্পষ্ট পার্থক্য চোখে পড়ে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
