নয়াদিল্লি, ২২ জুলাই: জাতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET) সহ অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হওয়া ‘ককোরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র সাম্প্রতিক ‘সংসদ চলো’ আন্দোলন ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র বিতর্ক ও কুরুচিকর সাইবার আক্রমণের ঝড় উঠেছে। নজিরবিহীনভাবে ইন্টারনেটের একাংশে জাতিবিদ্বেষী (Casteist) মন্তব্য ছড়িয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও তরুণদের টার্গেট করা হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথাকথিত ‘সাধারণ বর্গ’ (General Category)-র মানুষদের এই প্রতিবাদ থেকে দূরে থাকারও খোলাখুলি বার্তা বা হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির সমর্থনে গড়ে ওঠা এই তরুণ প্রজন্মের প্রতিবাদ যখন রাজপথে নজর কাড়ছে, ঠিক তখনই এক শ্রেণীর নেটিজেন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে বিষাক্ত মনোভাব ছড়াতে শুরু করেছে। এক্স (পূর্বতন টুইটার), ইনস্টাগ্রাম এবং ফেসবুকের মতো মাধ্যমে আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের জাতিগত পরিচয় তুলে কুরুচিকর ট্রোলিং করা হচ্ছে। একাধিক পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, এই ধরনের ছাত্র আন্দোলন নির্দিষ্ট কয়েকটি গোষ্ঠীর এজেন্ডা এবং এতে যোগ দিলে ‘সাধারণ বর্গ’-এর পরীক্ষার্থীদের কোনো লাভ হবে না।
আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য, যখন এনটিএ (NTA)-র গাফিলতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনার কারণে কোটি কোটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়েছে, তখন আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করতেই এই ধরণের জাতিগত বিভাজন তৈরির চেষ্টা চলছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাধারণ বর্গের পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে আন্দোলন দুর্বল করার এই চক্রান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন অভিভাবক ও সমাজকর্মীদের একাংশ।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ককোরোচ জনতা পার্টির আহ্বানে দিল্লির জন্তর মন্তরে হাজার হাজার তরুণ ও ছাত্র-ছাত্রী একত্রিত হয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। দিল্লির সংসদ ভবনের দিকে এগোতে গেলে পুলিশ জলকামান, লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাসের শেল প্রয়োগ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও আন্দোলনের জেরে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলা সামলাতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং দিল্লি পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু এই শারীরিক দমনপীড়নের পর এখন ভার্চুয়াল দুনিয়াতেও আন্দোলনকারীদের মানসিকভাবে ভেঙে ফেলার জন্য এই ধরণের জাতিগত আক্রমণ নামিয়ে আনা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠে আসছে।
কেবল বাইরের ট্রোলিংই নয়, আন্দোলনের অন্দরেও তৈরি হয়েছে একাধিক অনভিপ্রেত বিতর্ক। জন্তর মন্তরে পুলিশের লাঠিচার্জের সময় দলীয় মুখপাত্র বিজেতা দাহিয়ার একটি রেস্তোরাঁয় বসে বার্গার খাওয়ার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। সিজিপি নেতৃত্ব ঘটনাটিকে ‘সংবেদনহীন’ বলে বর্ণনা করে অবিলম্বে বিজেতা দাহিয়াকে সমস্ত দলীয় পদ ও দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করেছে।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে জানিয়েছেন, নানা ধরণের বাধা, পুলিশি অত্যাচার কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার ঘৃণামূলক প্রচার সত্ত্বেও তাঁদের এই ছাত্র আন্দোলন থামবে না। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ এবং জাতীয় পরীক্ষার স্বচ্ছতা সুনিশ্চিত করার দাবিতে তাঁরা আগামী দিনেও এই লড়াই চালিয়ে যাবেন। তবে যেভাবে একটি শিক্ষাসংক্রান্ত সামাজিক আন্দোলনকে জাতিগত বিভাজনের রঙ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজ।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.