নয়াদিল্লি, ২২ জুলাই: জাতীয় যোগ্যতা অর্জনকারী প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET)-র অনিয়মের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে গড়ে ওঠা আন্দোলন এবং দিল্লি পুলিশের হাতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীসহ অন্যান্য বিরোধী নেতাদের আটকের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ‘তামিলগা ভেট্রি কড়গম’ (TVK)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি অভিনেতা-রাজনীতিবিদ সি. জোসেফ বিজয়। বুধবার এক সামাজিক মাধ্যম বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁর দল শুরু থেকেই নিট পরীক্ষার সম্পূর্ণ বিলোপ সাধনের দাবিতে অনড়।
দিল্লিতে নিট অনিয়ম ও প্রশ্ন ফাঁস সংক্রান্ত ইস্যুতে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের সমর্থনে পথে নেমেছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ শীর্ষস্থানীয় বিরোধী নেতৃত্ব। কিন্তু দিল্লি পুলিশ তাঁদের আটক করে স্থানান্তরিত করায় গোটা ঘটনাকে চরম ‘অগণতান্ত্রিক’ এবং কেন্দ্রের দমনমূলক নীতি বলে তোপ দেগেছেন বিজয়। তিনি উল্লেখ করেন, দিল্লি ও সংসদ চত্বরে গণতান্ত্রিক উপায়ে এবং শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার প্রত্যেকের রয়েছে। দিল্লিতে আন্দোলনরত নেতাদের প্রতি যে আচরণ করা হয়েছে, তা দেশের মৌলিক রাজনৈতিক পরিবেশের পরিপন্থী। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ চত্বরে আয়োজিত বিরোধীদের বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রতিও পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন টিভিকে সুপ্রিমো।
নিট পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নিজের কঠোর অবস্থান বজায় রেখে বিজয জানান, চিকিৎসা শিক্ষায় ভর্তির জন্য এই সর্বভারতীয় প্রবেশিকা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের ও তাঁদের পরিবারের ওপর সীমাহীন মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছে। এই ব্যবস্থা ব্যবচ্ছেদ করে তিনি বলেন, কেবল সাময়িক সংস্কার বা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দিয়ে এর সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। নিট পরীক্ষা চিরতরে বাতিল করাই একমাত্র স্থায়ী উপায়। নির্বাচনী সুবিধা পেতে বা ‘ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি’ করতে টিভিকে কখনো জনগণকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেবে না বলেও দাবি করেন তিনি।
শিক্ষা ব্যবস্থার প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তন প্রসঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রস্তাব পেশ করেন বিজয়। তিনি যুক্তি দেখান যে, কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ তালিকা (Concurrent List) থেকে শিক্ষা খাতকে পুনরায় সম্পূর্ণভাবে রাজ্য তালিকায় (State List) ফিরিয়ে আনা উচিত। এতে রাজ্য সরকারগুলি নিজেদের শিক্ষা ও চিকিৎসা শিক্ষায় ভর্তির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাবে। আর যদি এই পদক্ষেপে কোনও আইনি বা সাংবিধানিক জটিলতা থাকে, তবে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে একটি ‘বিশেষ যৌথ তালিকা’ (Special Concurrent List) তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে রাজ্যগুলি নিট-এর মতো কেন্দ্রীয় কাঠামোর বাইরে নিজস্ব পদ্ধতি প্রণয়নের অধিকার পায়।
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বার্তা দিয়ে অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া বিজয় বলেন, কেন্দ্র সরকারের উচিত শিক্ষার্থীদের আবেগ, অভিভাবকদের উদ্বেগ এবং সাধারণ মানুষের চাওয়াকে গুরুত্ব দেওয়া। দেশের সর্বভারতীয় স্তরের একাধিক পরীক্ষায় বারবার জালিয়াতি ও প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার কারণে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত এখন ঘোর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রকে অবিলম্বে নিট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
