প্রেস কার্ড দেখেও রেহাই নেই, দিল্লিতে সাংবাদিকদের টেনেহিঁচড়ে বাসে তুলল পুলিশ!

নয়াদিল্লি, ১১ অক্টোবর:

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন কভার করতে গিয়ে দিল্লি পুলিশের নজিরবিহীন দমনপীড়নের মুখে পড়লেন জাতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা। রবিবার দিল্লির আর কে আশ্রম সংলগ্ন এলাকায় কর্তব্যরত অবস্থায় অন্তত ছয়জন সাংবাদিককে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে আটক হওয়া এক সহকর্মীর বিষয়ে পুলিশ আধিকারিকদের প্রশ্ন করতে গেলে তাঁদের কোনো উত্তর না দিয়ে উল্টে বলপ্রয়োগ করে প্রিজন ভ্যানে তুলে নেওয়া হয়। প্রবীণ সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈনের ক্যামেরাবন্দি করা এক ভিডিওতে পুলিশের এই আচরণ প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আর কে আশ্রম এলাকায় হিন্দুস্তান টাইমস, রিপোর্টার টিভি, উল্টা চশমা এবং ২৪ নিউজের মতো সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। সাংবাদিকরা জানতে চাইছিলেন, তাঁদের এক সহকর্মী সাংবাদিককে ঠিক কী অপরাধে বা কোন নির্দেশে আটক করা হয়েছে। কিন্তু উপস্থিত পুলিশ আধিকারিকরা কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে অস্বীকার করেন। ভিডিওতে শ্রীনিবাসন জৈনকেও সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের জবাবদিহি চাইতে দেখা যায়। এক পুলিশ আধিকারিক ক্ষুব্ধ গলায় সাফ জানিয়ে দেন, “কোনো প্রশ্ন করার জন্য এটি উপযুক্ত সময় নয়।” এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা সাংবাদিকদের টেনেহিঁচড়ে বাসে তুলে নেওয়া হয়।

১০ ও ১১ অক্টোবর দেশজুড়ে ভোটার তালিকার তথাকথিত গরমিল ও সংশোধন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সিজেপি এবং বিরোধী দলগুলির ডাকা বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মধ্য দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তোলে দিল্লি পুলিশ। কিন্তু আন্দোলনকারীদের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের ওপরও যে মাত্রায় পুলিশি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে, তা সাম্প্রতিক অতীতে বিরল। অভিযোগ উঠেছে, প্রেস কার্ড ও পরিচয়পত্র ঝুলিয়ে রাখা সত্ত্বেও স্ক্রোল, নিউজ লন্ড্রি, নবভারত টাইমস এবং দ্য কুইন্টের সাংবাদিকদের নির্বিচারে প্রতিরোধমূলকভাবে আটক করা হয়েছে। এমনকি কর্তব্যরত সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া এবং শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগও উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

গণতান্ত্রিক দেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীন কাজের অধিকারে এহেন প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন দিল্লির সাংবাদিক সংগঠনগুলি। প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়া ও বিভিন্ন সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলা হয়েছে, পুলিশ প্রশাসন কার্যত সত্য প্রকাশে বাধা দিতেই গণমাধ্যমের ওপর আগ্রাসন চালাচ্ছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply