২০২৬ সালের শেষের মধ্যে ভারতে চালু হবে পাঁচটি সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্ট: জানালেন অশ্বিনী বৈষ্ণব!

২০২৬ সালের শেষের মধ্যে ভারতে চালু হবে পাঁচটি সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্ট: জানালেন অশ্বিনী বৈষ্ণব!

২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ভারতে মোট পাঁচটি সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন কেন্দ্র (Semiconductor Plant) চালু হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় রেল, তথ্য ও সম্প্রচার এবং ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তাঁর মতে, দেশীয় চিপ উৎপাদন ব্যবস্থার দ্রুত অগ্রগতি ভারতের প্রযুক্তি ও উৎপাদন শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

মন্ত্রী জানান, কেন্দ্র সরকারের অনুমোদিত ১২টি সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্পের মধ্যে ইতিমধ্যেই তিনটি বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেছে। আরও দুটি প্ল্যান্ট আগামী কয়েক মাসের মধ্যে উদ্বোধন করা হবে। ফলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ পাঁচটি প্ল্যান্ট পূর্ণমাত্রায় কার্যকর হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি গুজরাটের সানন্দে (Sanand) অবস্থিত CG SEMI-এর OSAT (Outsourced Semiconductor Assembly and Test) প্ল্যান্টে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে। এটি চলতি বছরে ভারতের তৃতীয় সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্ট, যেখানে বাণিজ্যিকভাবে চিপ উৎপাদন শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই প্ল্যান্টের উদ্বোধন করেন। এর আগে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং ৩১ মার্চ দেশের প্রথম ও দ্বিতীয় সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্ট উদ্বোধন করা হয়েছিল।

অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, ভারতের সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন ক্ষমতা আন্তর্জাতিক মহলে দেশের প্রতি আস্থা বাড়িয়েছে। তাঁর কথায়, একটি শক্তিশালী সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন ইকোসিস্টেম গড়ে উঠছে, যা ভবিষ্যতে আত্মনির্ভর ভারতের (Atmanirbhar Bharat) অন্যতম ভিত্তি হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, সানন্দের CG SEMI প্ল্যান্টে তৈরি চিপ মূলত গাড়ি, স্কুটার, শিল্প যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক পণ্যে ব্যবহৃত হবে। শুধু দেশের বাজারেই নয়, এই চিপ জাপান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপেও রপ্তানি করা হবে, যা ভারতকে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ শৃঙ্খলে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাবে।

গুজরাট সরকারের সহযোগিতার প্রশংসা করে বৈষ্ণব বলেন, মাত্র ২৭ মাসের মধ্যে প্রকল্পটি ভূমিপুজো থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে পৌঁছেছে, যা ভারতের শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্প কেবল প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, সামাজিক পরিবর্তনেরও প্রতীক। ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, বিহার, জম্মু ও কাশ্মীর, কেরল এবং গুজরাটের বহু তরুণী এই প্ল্যান্টে অপারেটর হিসেবে কাজ করছেন। তাঁদের অনেকেই মালয়েশিয়ায় বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে এই অত্যাধুনিক শিল্পে যুক্ত হয়েছেন। ভবিষ্যতে এই ধরনের বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ ভারতের মধ্যেই দেওয়া সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে মোবাইল ফোন, অটোমোবাইল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), টেলিকম, প্রতিরক্ষা এবং উন্নত ইলেকট্রনিক্স শিল্পে ভারতের নির্ভরতা কমবে এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply