নয়াদিল্লি, ২৩ জুলাই: গত ২০ জুলাই রাজধানীর বুক কাঁপিয়ে যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবন অভিমুখে আয়োজিত বিশাল প্রতিবাদ মিছিল ও আন্দোলন ঘিরে এক নজিরবিহীন আইনি ও রাজনৈতিক চাঞ্চল্য তৈরি হলো। তথাকথিত ‘ককোরোচ জনতা পার্টি’ বা বিভিন্ন ছাত্র-যুব সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত সেই বিতর্কিত বিক্ষোভের পেছনে কোনো বড় ধরনের গভীর চক্রান্ত এবং বিদেশি অর্থপুষ্ট চক্রান্তকারী শক্তি হাত মিলিয়েছিল কি না— তা খতিয়ে দেখতে এবার সরাসরি ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এনআইএ (NIA) তদন্তের দাবি জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে দায়ের হলো জনস্বার্থ মামলা (PIL)। মামলার গুরুতর স্পর্শকাতরতা বিচার করে দিল্লি হাইকোর্ট বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে শুক্রবারই শুনানির জন্য প্রস্তুত হয়েছে।
আদালতে পেশ করা আবেদনপত্রটিতে গত ২০ জুলাইয়ের ঘটনাকে কেবল একটি সাধারণ ছাত্র আন্দোলন বা গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ হিসেবে দেখতে নারাজ মামলাকারীরা। সেখানে অভিযোগ তোলা হয়েছে, এই বিক্ষোভ প্রদর্শন ও মিছিলটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং সুসংগঠিত এক রাজনৈতিক চক্রান্ত। এর পেছনে কিছু আন্তর্জাতিক চক্রান্তকারী ও বিদেশি সংস্থাগোষ্ঠীর প্রত্যক্ষ অর্থায়নের সম্ভাবনা রয়েছে, যারা ভারতের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে চায়।
আবেদনকারীদের দাবি, সেদিন যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবনের দিকে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর অনিয়ন্ত্রিত অগ্রযাত্রার কারণে রাজধানী দিল্লির স্বাভাবিক জনজীবন পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যায়। মূল সড়কগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবরোধ করে রাখার ফলে সাধারণ মানুষকে সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হতে হয়। অসংলগ্ন জনসমাবেশের কারণে একপ্রকার ‘দিল্লিকে জিম্মি’ করে রাখার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল বলে পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনার পেছনে রাষ্ট্রবিরোধী কোনো ছক ছিল কি না, তা বের করতেই এনআইএ-র মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিয়ে নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জোর দাবি জানানো হয়েছে।
অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার প্রতিনিধি সতীশ কুমার আগরওয়ালের পক্ষ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালতে মামলাটির দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়ে বিষয়টি উত্থাপন করেন প্রবীণ আইনজীবী বারুণ কুমার সিনহা।
মামলার গুরুত্ব ও স্পর্শকাতরতা অনুধাবন করে দিল্লি হাইকোর্ট কাল বিলম্ব না করে আর্জি মঞ্জুর করে। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চে শুক্রবারই এই বহুল চর্চিত মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
নিট পরীক্ষা বাতিল ও শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারকে কেন্দ্র করে দিল্লির যন্তর মন্তরে বেশ কিছুদিন ধরেই অসন্তোষ দানা বাঁধছিল। সেই পটভূমিতে ‘ককোরোচ জনতা পার্টি’ বা বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের ওই দিনের বিতর্কিত সংসদ অভিযান ঘিরে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কিন্তু সেই ঘটনার সাথে ‘বিদেশি অর্থায়ন’ এবং ‘জাতীয় নিরাপত্তার’ মতো গুরুতর অভিযোগ যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি এখন আইনি ও রাজনৈতিক দিক থেকে এক নতুন মাত্রা লাভ করল।
আইনজীবীদের একাংশের মতে, যদি আদালত এই বিষয়ে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দেয়, তবে আন্দোলনের পেছনের অর্থনৈতিক রসদ ও মদতদাতাদের নাম সামনে আসতে পারে। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের মতে এটি তাদের আন্দোলনকে দমন করার এক কৌশল মাত্র। এখন শুক্রবার প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ এই জনস্বার্থ মামলাটি নিয়ে কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র রাজনৈতিক ও আইনি মহল।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
